সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: ডিভিসি কর্তৃপক্ষ পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের পাঞ্চেৎ জলাধারের উপর ভাসমান সোলার পাওয়ার প্রজেক্ট করতে চাইছে। প্রজেক্টের কাজ হলে জলাধারের উপর নির্ভরশীল মৎস্যজীবীরা জীবিকা হারাবে। তাই সোলার প্রজেক্ট বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি এলাকার বাসিন্দাদের জন্য বাথানবাড়ি থেকে মহেশ নদীর চেকপোস্ট পর্যন্ত সেতু নির্মাণ করতে হবে। সেই দাবি জানিয়ে সোমবার এলাকার বাসিন্দারা চেকপোস্ট থেকে পাঞ্চেৎ (ঝাড়খণ্ড সীমানা) পর্যন্ত বাইক মিছিল করে। এদিন বাস্তুহারা মৎস্যজীবী গণসংগ্রাম কমিটি, দামোদর ভ্যালি বাস্তুহারা সংগ্রাম সমিতি, সেতু নির্মাণ ও মৎস্যজীবী জীবন-জীবিকা রক্ষা কমিটি, ভারত জাকাত মাঝি পারগানা জুয়ান মহলের মতো সংগঠনগুলি আন্দোলনের শামিল হয়। প্রায় পাঁচ শতাধিক বাইক নিয়ে মিছিল করা হয়। মিছিলে গণসংগঠনের তরফ থেকে পুরুলিয়া থেকে রাজেন টুডু, বিপ্লব মারান্ডি, পরেশ মারান্ডি, ঝাড়খণ্ড থেকে রামাশ্রয় সিং নেতৃত্ব দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশ স্বাধীনের পর ডিভিসি কর্তৃপক্ষ দামোদর নদের উপর বাঁধ দিয়ে পাঞ্চেৎ জলাধার নির্মাণ করেন। সেই জলাধারে জলকে কাজে লাগিয়ে বর্তমানে জলবিদ্যুৎ তৈরি করা হচ্ছে। ডিভিসি কর্তৃপক্ষ বর্তমানে পাঞ্চেৎ জলাধারের উপর ভাসমান সোলার পাওয়ার প্রজেক্ট তৈরি করতে চাইছে। অভিযোগ, সোলার পাওয়ার প্রজেক্ট হলে এলাকার দুই রাজ্যের প্রায় তিন হাজার মানুষ রুজি রুটি হারাবে। কারণ তাঁরা ওই নদে মাছ ধরে জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করে। ফলে কোনওভাবেই প্রজেক্টের কাজ করতে দেওয়া যাবে না। অন্যদিকে, নিতুড়িয়া ব্লকের রায়বাঁধ ও গুনিয়াড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মানুষ ব্লকের যে কোনও দপ্তরে যাওয়ার জন্য নদী পথ অবলম্বন করে। নদীপথে নৌকা দিয়ে তারা যাতায়াত করে। ফলে সোলার প্রজেক্ট হলে নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। তাই সেতুর দাবি জানানো হয়েছে।
ডিভিসির একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, জলাধারের উপর পশ্চিমবঙ্গের দিকে ৭৫ মেগাওয়াট এবং ঝাড়খণ্ডের দিকে ৩০ মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুৎ নির্মাণের জন্য কাজ করা হবে। প্রজেক্টের কাজের জন্য ইতিমধ্যে মালপত্র আনা হয়েছে।
এদিনের আন্দোলনের শামিল বিপ্লব মারান্ডিরা বলেন, বহু মানুষ পাঞ্চেৎ জলাধারে মাছ ধরে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে। সেখানে পাওয়ার প্রজেক্ট নির্মাণ হলে পরিবারগুলি ধ্বংস হয়ে যাবে।
রাজেনবাবু বলেন, ডিভিসি কর্তৃপক্ষ ১৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ তৈরি করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বিদ্যুৎ আমাদের তিন হাজার পরিবারের কোনও কাজে লাগবে না। প্রজেক্ট হলে পরিবারগুলি রাস্তায় বসবে। তাই এলাকা ধ্বংসের শিল্প কোনওভাবেই হতে দেব না।