Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনে ধৃত শিক্ষকের ফাঁসি চেয়ে ফের বিক্ষোভ, আদিবাসীদের মিছিলে স্তব্ধ রামপুরহাটের জনজীবন

নাবালিকা ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনার প্রতিবাদে আদিবাসী সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিল, পথসভার জেরে শুক্রবার ফের স্তব্ধ হল রামপুরহাট শহর।

নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনে ধৃত শিক্ষকের ফাঁসি চেয়ে ফের বিক্ষোভ, আদিবাসীদের মিছিলে স্তব্ধ রামপুরহাটের জনজীবন
  • ১৮ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নাবালিকা ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনার প্রতিবাদে আদিবাসী সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিল, পথসভার জেরে শুক্রবার ফের স্তব্ধ হল রামপুরহাট শহর। এদিন দুপুর আড়াইটা থেকে নানারকম অস্ত্র ও তির ধনুক হাতে মিছিল করল দিশম আদিবাসী গাঁওতার সদস্যরা। ছিলেন নিহত ছাত্রীর বাবা। রামপুরহাট রেলওয়ে চ্যাম্পিয়ান গ্রাউন্ড থেকে সেই মিছিল শুরু হয়ে গোটা শহর প্রদক্ষিণের পর শহরের প্রাণকেন্দ্র পাঁচমাথা মোড়ে জড়ো হয়। পাঁচমাথা অবরুদ্ধ করে সেখানে দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে পথসভা। নেতৃত্ব দেন সংগঠনের রাজ্য সভাপতি রবিন সোরেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরের সর্বত্র পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। বিভিন্ন থানা থেকে আধিকারিক ও পুলিশ কর্মীদের নিয়ে আসা হয়েছিল।   

Advertisement

বছর তেরোর আদিবাসী ছাত্রীর খুনের ঘটনায় ধৃত শিক্ষক মনোজ পালকে দ্রুত ফাঁসি দিতে হবে। এই দাবিতে বাঁশ ও দড়ি দিয়ে তৈরি ‘প্রতীকী ফাঁস’ নিয়ে রামপুরহাট শহরে অস্ত্র হাতে বিক্ষোভ মিছিল ও  পথসভা করে আদিবাসীরা। বিভিন্ন জেলা থেকে শতাধিক বাস রির্জাভ করে ও ট্রেন যোগে আসেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মিছিল শেষে পথসভায় বক্তব্য রাখেন নেতারা। পুলিশের তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তোলেন তাঁরা। অভিযোগ,  নিখোঁজের অভিযোগ পাওয়ার পর তৎকালীন তদন্তকারী অফিসার লেডি এএসআই জুলি সাহা অভিযুক্ত শিক্ষকের বাড়িতে ঠিকমতো তল্লাশি চালালে ওই ছাত্রীকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হতো। নেতারা বলেন, অনেক সংগঠন এই ঘটনা থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে। গত শুক্রবার এই জায়গায় একটা সভা হয়েছিল। সেই সভায় ঝাড়গ্রামের প্রাক্তন এমপি (পুলিন বিহারী বাস্কে) হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, রবিন সোরেন এখানে  দালালি করছে এবং তাঁকে এই জেলা থেকে তাড়াতে হবে। তারই পাল্টা এদিনের সভা থেকে দিশম আদিবাসী গাওঁতার নেতারা হুমকি দিয়ে বলেন, আপনি এখানে এসে রাজনীতি করবেন আর আমরা চুপ করে থাকব এটা হতে দেব না। আমরা জাতপাতে বিশ্বাসী নই। মুখ্যমন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রী, রাজ্যপাল থেকে রাষ্ট্রপতি সকলের কাছে এই আওয়াজ পৌঁছে দিতে চাই যে, দিন হোক বা রাত হোক কোনও মহিলার সঙ্গে কোনও অন্যায় যাতে না হয়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।  
অন্যদিকে রবিন সোরেন বলেন, মনোজ পালের ফাঁসির দাবিতে রাস্তায় নেমেছি। সেই সঙ্গে ছাত্রীর দেহের বাকি অংশ উদ্ধার করতে হবে। রাজ্যজুড়ে মহিলাদের উপর নির্যাতন বাড়ছে, অথচ পুলিশ প্রশাসন নিশ্চুপ। কয়েকদিন আগে এখানে বিভিন্ন সংগঠন কুৎসা রটিয়ে গিয়েছে। এদিন মিছিল ও সভার মাধ্যমে দেখালাম মৃত ছাত্রীর পরিবার আমাদের সঙ্গে আছে। কোনও রাজনৈতিক দল এখানে দাঁত ফোটাতে পারবে না। ফাঁসির দাবি নিয়ে প্রয়োজনে রাজ্যপাল ও রাষ্ট্রপতির কাছেও যাব। বিকেল প্রায় পাঁচটা পর্যন্ত সভা চলে। জনজীবন সচল হতে আরও কিছুক্ষণ সময় লেগে যায়।   নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ