দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: নিট দুর্নীতির প্রতিবাদে ককরোচদের আন্দোলন ও পুলিশি বর্বরতার ইস্যুতেবুধবার রাজ্যসভায় সরকার পক্ষের সঙ্গে বিরোধীদের তুলকালাম হল। রাজ্যসভার নেতা জেপি নাড্ডার সঙ্গে তুমুল কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়লেন বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে এবং অন্যরা।
নাড্ডা বললেন, ‘পুলিশ সাধারণভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করেছে মাত্র। বিরোধীরা এর রাজনীতিকরণ করছে। গোটা ইস্যুকে অযথা স্পর্শকাতর করে তুলছে।’ এপ্রসঙ্গে কংগ্রেসকে খোঁচা দিতে প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর জারি করা জরুরি অবস্থার উল্লেখও করেছেন জেপি নাড্ডা। বলেন, ‘ইমার্জেন্সির সময় ছাত্র আন্দোলন করতে গিয়ে আমি নিজে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছি।’ ঘটনাচক্রে সেইসময় খাড়্গের পাশে বসেছিলেন সাংসদ সোনিয়া গান্ধীও। বুধবার হট্টগোলের মধ্যেই সিপিএম কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার পুলিশি হানার প্রসঙ্গ তোলেন দলের রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিত্তাস। প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের একটি মামলার ঘটনায় মঙ্গলবার দিল্লির এ কে গোপালন ভবনে এসএফআই নেত্রী ঐশী ঘোষের খোঁজে তল্লাশি চালানোর অভিযোগ ওঠে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে। পুলিশি হানার প্রতিবাদে বুধবার সংসদের বাইরে তীব্র প্রতিবাদে শামিল হয়েছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি। এদিন সংশ্লিষ্ট প্রসঙ্গ সিপিএম সাংসদ রাজ্যসভায় তুলতেই নাড্ডা বলেন, ‘এটি যে খুবই সাধারণ আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়, সেটা আমাদের বুঝতে হবে। নিয়ম মেনে কাজ করতে হয়েছে পুলিশকে। যেকোনো পড়ুয়া, যারা সরাসরি আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে, তাদের এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতেই হবে।’
এপ্রেক্ষিতেই নিজের ছাত্র রাজনীতির প্রসঙ্গ তুলেছেন রাজ্যসভার নেতা। স্বাভাবিকভাবেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডার এহেন মন্তব্যে রীতিমতো তেড়েফুঁড়ে ওঠে বিরোধীরা। শুরু হয় তুমুল হইচই। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সভা কক্ষে এসে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলতে থাকে বিরোধীরা। খাড়্গে অভিযোগ করেন, নিরীহ ছাত্রদের গায়ে যারা হাত তুলল, তারা বিনা বাধায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। তিনি বলেন, ‘যারা বেআইনিভাবে ওইদিন গিয়েছিল, তাদের শাস্তি হওয়া দরকার। তারা কে? কার নির্দেশে ওখানে গিয়েছিল? ’ প্রবল হট্টগোলের জেরে সভার কাজ সাময়িক মুলতুবি করে দেওয়া হয়।