Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রাস্তা সংস্কারের দাবিতে জাতীয় পতাকা হাতে তারকেশ্বরে অবরোধ, বিক্ষোভ

তারকেশ্বর ব্লকের চাঁপাডাঙা পঞ্চায়েতের চাঁপাডাঙা মোড় থেকে পিয়াসারা পর্যন্ত এই রাস্তা।

রাস্তা সংস্কারের দাবিতে জাতীয় পতাকা হাতে তারকেশ্বরে অবরোধ, বিক্ষোভ
  • ২৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: তারকেশ্বর চাঁপাডাঙা কলেজ রোডের বেহাল দশা। তারকেশ্বর ব্লকের চাঁপাডাঙা পঞ্চায়েতের চাঁপাডাঙা মোড় থেকে পিয়াসারা পর্যন্ত এই রাস্তা। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিবাদের পর বুধবার জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তা মেরামতের দাবিতে পথে নামলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান তাঁদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। অবরোধ তুলতে ঘটনাস্থলে আসে তারকেশ্বর থানার পুলিস। প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে চলতে থাকে বিক্ষোভ। কয়েক ঘণ্টা বিক্ষোভ চলার পর প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Advertisement

তারকেশ্বরের পুরনো রাস্তাগুলির মধ্যে এটি অন্যতম। পুরনো অহল্যাবাই রোড এটি। কথিত আছে, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর পায়ে হেঁটে এই পথেই যেতেন। মায়ের ডাকে এই পথ পেরিয়ে সাঁতার কেটে পার হয়েছিলেন দামোদর নদ। কিন্তু দীর্ঘ চার বছর এই রাস্তাটির বেহাল দশা। বড় বড় গর্তে ভরেছে সেটি। সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমে যায়। এদিকে এই রাস্তাতেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ রবীন্দ্র মহাবিদ্যালয়, স্কুল, প্রাচীন বাজার ইত্যাদি। 
স্থানীয় বাসিন্দা ৭০ ঊর্ধ্ব মির্জা মহম্মদ কাসেম আলি বলেন, এই এলাকার কলেজটি জেলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কলেজ ছিল এক সময়ে। কিন্তু বেহাল রাস্তা এবং যোগাযোগের সমস্যার কারণে কলেজে দিনদিন ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা কমেছে। চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত যেতে পারে না রাস্তায়। মাঝে মাঝেই রাস্তা সারানোর দাবিতে আন্দোলন হয়। তখন সামান্য ইট দিয়ে গর্ত ভরাট করে সান্ত্বনা দেওয়া হয় সাধারণ মানুষকে।
এই রাস্তাটি নিয়ে বারে বারে বিজেপি ও সিপিএম প্রতিবাদ জানিয়েছে। সিপিএমের হুগলি জেলা কমিটির সদস্য মন্টু ভৌমিক জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি সব সময় অবহেলিত। এলাকার ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারছেন না। রাস্তা দিয়ে গাড়ি গেলে গর্তে জমে থাকা জল ছিটকে আসছে দোকানে। রয়েছে কৃষক বাজার। তৈরি হচ্ছে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, বারে বারে আন্দোলন করেও এই রাস্তার পরিবর্তন হচ্ছে না। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, দ্রুত এই রাস্তা তৈরি করা হোক।
স্থানীয় পঞ্চায়েতের উপপ্রধান প্রভাত চট্টোপাধ্যায় বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিবাদ স্বাভাবিক। এই রাস্তাটি বারে বারে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এটা জেলা পরিষদের রাস্তা। প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। জেলা পরিষদে আমরা জানিয়েছিলাম নিচু এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি না হলে বারে বারে এই রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে। জেলা পরিষদ থেকে ড্রেন তৈরির জন্য ৩৯ লক্ষ টাকা ইতিমধ্যেই বরাদ্দ করা হয়েছে। খুব দ্রুত ড্রেন তৈরির কাজ শুরু হবে। পরবর্তী বৈঠকে এই রাস্তা পিচ না পেভার ব্লক, কী দিয়ে তৈরি হবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা। আশা করি, দ্রুত রাস্তা তৈরির কাজ শেষ হবে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ