নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর ও কলকাতা: রাস্তা আটকে বিকাশ ভবনের সামনে আন্দোলন চলছিল চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের। রাস্তা অবরুদ্ধ না করে সেখান থেকে তাঁদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আন্দোলনকারীদের জন্য সেন্ট্রাল পার্কের সুইমিং পুলের পাশে ছাউনি, শৌচালয়, পানীয় জলের ব্যবস্থা করেছে বিধাননগর পুরসভা। রবিবার আন্দোলনকারীরা মূল রাস্তা ছাড়লেও বিকাশ ভবনের চত্বর থেকে সরলেন না। বিকাশ ভবনের পাশে মেট্রো স্টেশনের নীচে ৩ নম্বর লেনে তাঁরা বসেছেন। পুরসভার করে দেওয়া ছাউনির নীচে তাঁরা যাননি। মূল রাস্তায় যান চলাচলও শুরু হয়েছে। এদিকে, আলোচনায় বসতে চেয়ে তাঁরা শিক্ষামন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন। তবে, তাঁরা কী আলোচনা চান, তা নির্দিষ্ট ফর্মে চিঠি দিন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। সেই সঙ্গে আজ, সোমবার তাঁর দপ্তর থেকে যোগাযোগ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
নতুন করে পরীক্ষায় না বসতে চেয়ে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন একদল চাকরিহারা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী। আন্দোলনের জেরে বিকাশ ভবনের সামনের মূল রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ফলে সরকারি অফিস পরিচালনা থেকে শুরু করে সমস্যায় পড়ছিলেন সাধারণ মানুষও। আদালতের নির্দেশে তাঁরা যাতে বিকাশ ভবনের উল্টো দিকে সেন্ট্রাল পার্কের সুইমিং পুলের পাশে বসে আন্দোলন করতে পারেন, তার জন্য বিধাননগর পুরসভা ছাউনির ব্যবস্থা করে দিয়েছে। আন্দোলনকারীরা পুলিসকে জানিয়েছেন, যেখানে ছাউনি করা হয়েছে, তার পাশে ঝোপ-জঙ্গল রয়েছে। তাই পরিষ্কার না করা পর্যন্ত তাঁরা সেন্ট্রাল পার্ক মেট্রোর নীচে ৩ নম্বর লেনের সামনে বসে থাকবেন।
রবিবার কলকাতার গোলপার্কে অল বেঙ্গল প্রিন্সিপালস কাউন্সিলের বার্ষিক সাধারণ সভায় এসেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। আলোচনায় বসার চিঠি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানিয়েছেন, একটা চিঠি আমি পেয়েছি। কিন্তু সেখানে কেন বসতে চাওয়া হয়েছে, তার উল্লেখ নেই। আবার আরও একটি দল আছে, যেখানে দু-আড়াই হাজার শিক্ষক আছেন। তাঁদের তরফে আমি কোনও চিঠি পাইনি। তাঁরা সরকারের সঙ্গে সব রকম সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। আরও কিছু লোক আছেন, যাঁরা কোনও আন্দোলনে নেই। তাঁরা মূলত সরকারের প্রতি ভরসা ও আইনের প্রতি আস্থা রেখেছেন। আমরা এই তিনপক্ষের প্রতি সহানুভূতিশীল। যদি কেউ আলোচনায় বসতে চান, তাহলে কী নিয়ে আলোচনা করতে চান, সেই নির্দিষ্ট ফর্মে আমাকে চিঠি দিন। আমাদের দপ্তরের প্রতিনিধিরা নিশ্চয়ই আগামী কাল ওঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।
প্রসঙ্গত, এদিন ৩৩তম বার্ষিক সাধারণ সভা ও কনফারেন্স থেকে অল বেঙ্গল প্রিন্সিপালস কাউন্সিলের জেনারেল বডি তৈরি হয়েছে। তার চিফ অ্যাডভাইজর করা হয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে। স্টেট এগজিকিউটিভ কমিটির জেনারেল সেক্রেটারি হয়েছেন ডাঃ মানস কবি এবং প্রেসিডেন্ট হয়েছেন স্বাগতা দাস মহাপাত্র। এদিন কমিটির লোগো ও ইউটিউব চ্যানেলের উদ্বোধন করা হয়েছে।