সংবাদদাতা, ডোমকল: সাগরপাড়ায় সরকারি নয়ানজুলি ভরাট করে রাস্তা তৈরির প্রতিবাদ করায় এক ব্যক্তি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে মারধরের অভিযোগ উঠল। স্থানীয় সিপিএম নেতা রাকিবুল হাসান সহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে সাগরপাড়া থানায়। অভিযোগকারী নাজমুল শেখ। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সাগরপাড়ার জয়পুর-ঘোড়ামারা এলাকায়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জয়পুর-ঘোড়ামারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তার ধারে একটি নয়ানজুলি রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রবিবার বিকেলে নয়ানজুলির একাংশ মাটি ফেলে ভরাট করে রাস্তা তৈরি করছিল রাকিবুলরা। রবিবার বিকেলে মেয়েকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সময় বিষয়টি নজরে আসতেই তার প্রতিবাদ করেন স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল শেখ। অভিযোগ, সরকারি জায়গা ভরাট করতে নিষেধ করতেই অভিযুক্ত রাকিবুল হাসান সহ কয়েকজন তাঁকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করেন। এরপরই মোবাইলে ঘটনাটি রেকর্ড করতে গেলে তাঁর উপর চড়াও হয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়েও। তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এরপরই সাগরপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন নাজমুল। অভিযোগের ভিত্তিতে সিপিএম নেতা তথা দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েটের সদস্য হীরামন বিবির স্বামী রাকিবুল হাসান সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সরকারি নয়ানজুলি ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ সম্পূর্ণ বেআইনি। তা সত্ত্বেও কীভাবে প্রকাশ্যে নয়ানজুলি বুজিয়ে রাস্তা তৈরির চেষ্টা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি রক্ষার দাবিতে প্রতিবাদ করতে গিয়ে এক ব্যক্তি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগেও ক্ষোভ ছড়িয়েছে এলাকায়।
অভিযোগকারী নাজমুল শেখ বলেন, আমি আমার দুই মেয়েকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছিলাম। তাঁদের মধ্যে একজন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। সেই সময় দেখি রাকিবুলরা সরকারি নয়ানজুলি ভরাট করে রাস্তা তৈরি করছে। ওরা পিছনের জমিগুলো কিনেছে। প্রমোটারি করে চড়া দামে তা বিক্রির জন্য এভাবে সরকারি খাল বুজিয়ে রাস্তা তৈরি করার চেষ্টা করছিল। আমি নিষেধ করতেই ওরা আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। ঘটনাটি মোবাইলে রেকর্ড করতে গেলে আমার উপর চড়াও হয়ে মারধর করে। আমাকে বাঁচাতে এলে আমার সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকেও মারধর করা হয়। আমার দুই মেয়েকেই ওরা মারধর করেছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই।
স্থানীয় দেবীপুর পঞ্চায়েত প্রধান আফরিনা বিবি বলেন, বিষয়টি দেখেছি। এভাবে সরকারি জায়গায় নয়ানজুলি বুজিয়ে উনি রাস্তা করতে পারেন না। এটা পুরোপুরি বেইআইনি। পুরো বিষয়টি প্রশাসনিক মহলেও জানিয়েছি।
যদিও অভিযুক্ত রাকিবুল হাসান বলেন, ওই প্রধান দুর্নীতিগ্রস্ত। আমার স্ত্রী পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেত্রী হওয়ায় প্রধান পঞ্চায়েতে দুর্নীতি করতে পারছে না। আমি সিপিএম করি। তাই রাজনৈতিকভাবে আমাকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চলছে। গর্তের পেছনে আমাদের জমি আছে। সেখানকার ফসল নিয়ে আনার জন্য আমরা সবাই মিলে রাস্তা করছিলাম। তাই একটু মাটি ফেলে রাস্তা করছিলাম। তাছাড়া মারধরের যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা পুরোপুরি মিথ্যে। -নিজস্ব চিত্র