সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: গরম পড়তে না পড়তেই রঘুনাথগঞ্জ-১ ব্লকের মিয়াপুর এলাকায় পানীয় জলের সংকট শুরু হয়েছে। প্রতিবাদে সোমবার সকালে মিয়াপুরে রেল ওভারব্রিজের মুখে হাতে ঝাঁটা ও জলের খালি পাত্র নিয়ে বিক্ষোভ দেখান এলাকাবাসী। পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগেও তাঁরা সরব হন। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। খবর পেয়ে রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশ এসে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, বিগত প্রায় দু’ বছর ধরে এলাকায় নিয়মিত পানীয় জল মেলে না। পানীয় জল সহ সরকারি সুযোগ-সুবিধা না মিললে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন। যদিও বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন পঞ্চায়েত প্রধান। তাঁর দাবি, এলাকায় প্রচুর উন্নয়ন হয়েছে।
রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশ জানিয়েছে, এদিন স্থানীয়রা পানীয় জলের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান। সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের সেতুর মুখ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। যানবাহন চলাচলে কোনো অসুবিধা হয়নি।
জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় পরিস্রুত পানীয় জলের অভাব রয়েছে। গ্রামের মহিলাদের অভিযোগ, দূর-দূরান্ত থেকে জল বয়ে আনতে নাভিশ্বাস উঠছে। এদিকে গত চারদিন ধরে এলাকায় একেবারেই পানীয় জল মিলছে না। জল না পেয়ে এদিন প্রায় জনা পঞ্চাশেক বাসিন্দা হাতে ঝাঁটা নিয়ে বেরিয়ে আসেন। অনেকের হাতে জলের খালি পাত্র ছিল। তাঁরা মিয়াপুর রেল ওভারব্রিজের মুখে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। আন্দোলনকারীদের আরও দাবি, প্রকৃত যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা সরকারি বাড়ি পাননি। বাড়ির জন্য কাটমানি চাওয়া হচ্ছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, উন্নয়নের কাজে ‘রাজনৈতিক রং’ দেখা হচ্ছে। শাসকদলের ঘনিষ্ঠরাই কেবল পরিষেবা পাচ্ছেন বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।
বিক্ষোভকারী এক বধূ বলেন, গত চারদিন ধরে জল মিলছে না। আমরা জল কোথায় পাব? শাসকদলের জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, আমরা নাকি তাঁদের ভোট দিইনি। তাই ওঁরা আমাদের পরিষেবা দেবেন না। অপর এক বিক্ষোভকারী রাজা সরকার বলেন, প্রধানের আশ্বাস কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। অবিলম্বে পানীয় জল এবং আবাস যোজনার সঠিক বণ্টন না হলে আমরা আরও বড়ো আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জরুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ইয়াকুব আলি বলেন, এলাকায় ইতিপূর্বেই প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে মিয়াপুরের কিছুটা দূরেই পিএইচইর জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজনৈতিক রঙের অভিযোগ সঠিক নয়।