Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মেডিক্যালে সদ্যোজাত মৃত্যু, উত্তেজনা

মেডিক্যালে সদ্যোজাত মৃত্যু, উত্তেজনা

মেডিক্যালে সদ্যোজাত মৃত্যু, উত্তেজনা
  • ১৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: সদ্যোজাতের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। সোমবার গভীর রাতে মাতৃমা বিভাগে উত্তেজনা ছড়ায়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়ায় পলাশীর বাসিন্দা এক রোগিনী প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে মাতৃমা বিভাগে ভর্তি হন। প্রসবের পরেই ওই রাতে সদ্যোজাতের মৃত্যু হয়। এরপরই হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন রোগীর পরিবারের লোকজন। চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। 

Advertisement

বিক্ষোভের পাশাপাশি মাতৃমা বিভাগে ভাঙচুর চালানোর চেষ্টা হয়। অভব্য আচরণ করা হয় চিকিৎসক, নার্সদের সঙ্গে। নিরাপত্তারক্ষীরা রোগীর পরিজনদের আটকানোর চেষ্টা করলে তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়। এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন অন্যান্য রোগী ও রোগীর পরিজনরা। খবর পেয়ে বহরমপুর থানার বিরাট পুলিসবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামল দেয়। ঘটনায় দুজনকে আটক করে বহরমপুর থানায় নিয়ে আসে পুলিস।
মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের সুপার (এমএসভিপি) অনাদি রায়চৌধুরী বলেন, প্রসূতি বিভাগের ওই ঘটনায় পুলিসের কাছে অভিযোগ জমা দিয়েছি। নিরাপত্তারক্ষী এবং চিকিৎসকরাও একটি অভিযোগ জমা করেছেন। চিকিৎসক এবং নার্সদের গায়ে কেউ হাত তোলেনি। তবে, খুবই দুর্ব্যবহার করেছে ওই রোগীর পরিবার। এটা কিছুতেই কাম্য নয়। ওই প্রসূতি এখন সুস্থ। কী কারণে এমন ঘটল খতিয়ে দেখছি। পুলিস জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।  দু’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হাসপাতালে কেউ তাণ্ডব চালালে তা বরদাস্ত করা হবে না। 
রোগীর এক পরিজন বলেন, সন্তান প্রসবের পরেই শোনা যায়, বাচ্চাটি মারা গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবে বাড়ির পুরুষ সদস্যরা রেগে গিয়ে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে। সে সময় নিরাপত্তারক্ষীরা এলে ওদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। কাউকে মারধর করা হয়নি। তবুও পুলিস বিনা কারণে দু’জনকে তুলে নিয়ে চলে গিয়েছে।  
তবে এই প্রথম নয়, মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালে প্রায়শই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটায় রীতিমতো উদ্বেগ বাড়ছে। গত ১ মার্চ জলঙ্গির এক মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীর হাতে জখম হন এক সিনিয়র রেসিডেন্ট ডক্টর। অপারেশন থিয়েটারের কাচি নিয়ে কর্তব্যরত এক অ্যানাসথেসিয়া বিভাগের চিকিৎসককে আক্রমণ করে ওই রোগী। রক্তাক্ত অবস্থায় ওই চিকিৎসককে উদ্ধার করে মেডিক্যালেই তাঁর চিকিৎসা করা হয়। মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ ওই চিকিৎসকের  আক্রমণের ঘটনায় রীতিমতো কমিটি তৈরি করে তদন্ত শুরু করে। সেই ঘটনার ঠিক দু’সপ্তাহ পরই চিকিৎসকের উপর আক্রমণের চেষ্টায় চাঞ্চল্য ছড়াল। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ