নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: যুবতীকে ‘অপহরণ’ এর অভিযোগে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্বে উত্তেজনা ছড়াল কালীগঞ্জে। মঙ্গলবার গভীর রাতে কালীগঞ্জ থানার দেবগ্রাম এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। জাতীয় সড়কের টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ, পুলিসকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি হয়। তাতে কালীগঞ্জ থানার বেশ কয়েকজন পুলিস অফিসার জখম হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিসকে লাঠিচার্জ করতে হয়। অশান্তিতে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় বিজেপির চারজন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের নাম শিবশঙ্কর মৈত্র, স্বপন ঘোষ, বাপি প্রামাণিক ও বাপন ঘোষ। বুধবার তাঁদের কৃষ্ণনগর আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। বুধবার সকালে নিখোঁজ যুবতীকেও পুলিস উদ্ধার করে। তবে যুবতী পুলিসকে জানিয়ে দেন, ওই যুবককে বিয়ে করে তিনি স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়েছেন। তাঁকে কেউ অপহরণ করেনি।
কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এসপি অমরনাথ কে বলেন, কিছু লোকজন পরিকল্পতভাবে আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার করেছিল। উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। এক যুবতীকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছিল। কিন্তু, যুবতী জানিয়ে দেন, তাঁকে অপহরণ করা হয়নি। তিনি স্বেচ্ছায় গিয়েছেন। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কালীগঞ্জের মাটিয়ারি পঞ্চায়েত এলাকার প্রাপ্তবয়স্ক এক যুবতীর সঙ্গে দেবগ্রাম পঞ্চায়েতের ডিঙ্গেল এলাকার এক যুবকের ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ৮ এপ্রিল থেকে ওই যুবতী নিখোঁজ ছিলেন। ওই দিন বিকেলে যুবতীর পরিবারের লোকজন থানায় মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন। এই ঘটনায় রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে এগিয়ে আসে বিজেপি। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ কালীগঞ্জ থানার দেবগ্রাম ফাঁড়ি ঘেরাও করে তারা। সেইসঙ্গে অভিযুক্ত যুবককে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানায় পরিবারের লোকজন। পুলিসের পক্ষ থেকে তাঁদের বোঝানো হয়, অপহরণের মামলা রুজু করা হয়েছে। কিন্তু, তাতে কর্ণপাত করেনি বিজেপি। রাত ১১টা নাগাদ দেবগ্রাম চৌরাস্তার কাছে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিজেপি। দলীয় পতাকা নিয়ে বিজেপি নেতা-কর্মীরা অবরোধে শামিল হন।
এরপর খবর পেয়ে দেবগ্রাম ফাঁড়ি, পলাশী ও জুড়ানপুর পুলিস ফাঁড়ির অফিসাররা ঘটনাস্থলে আসেন। তাঁরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। সেইসঙ্গে পুলিসকে লক্ষ্য করে তারা ইট ছুড়তে থাকে। ইটের ঘায়ে জুড়ানপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ দেবজ্যোতি পাঠক সহ বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম হন। তারপরই উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিস লাঠিচার্জ করে। প্রায় রাত ১২টা পর্যন্ত এই গণ্ডগোল চলে। এই ঘটনায় শতাধিক জনের বিরুদ্ধে পুলিস স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করে।
কালীগঞ্জ ব্লকের তৃণমূলের ব্লক সভাপতি দেবব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, কালীগঞ্জ শান্তিপ্রিয় জায়গা। বিজেপি যে কোনও বিষয়কে ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে। কালীগঞ্জের মানুষ বিজেপির এই অপচেষ্টা মেনে নেবে না।
নদীয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সহ সভাপতি সৈকত সরকার বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। এর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক যোগ নেই। কিন্তু, পুলিস বেধড়ক লাঠিচার্জ করে। আমাদের দলের লোকজনকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। সামনে কালীগঞ্জের উপ নির্বাচন। তাই ওরা পুলিসকে দিয়ে মাঠ ফাঁকা করতে চাইছে। আমরা পুলিসের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাব।