Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ওয়াকফ বিল প্রত্যাহারের দাবি মুরারইয়ে বিক্ষোভ-মিছিল

ওয়াকফ বিল প্রত্যাহারের দাবি মুরারইয়ে বিক্ষোভ-মিছিল
  • ১০ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: হাজার হাজার মানুষের মিছিলের ঢেউ আছড়ে পড়ল মুরারইয়ের রাস্তায়। ওয়াকফ বিল প্রত্যাহারের দাবিতে পুরুষদের পাশাপাশি শামিল হলেন মহিলা ও শিশুরা। প্রতিবাদে মুখর হন বিভিন্ন মসজিদের ইমাম থেকে এলাকার বিধায়ক, শাসকদলের জনপ্রতিনিধি ও নেতা-কর্মীরা। তার জেরে বুধবার স্তব্ধ হয়ে যায় মুরারই বাজার। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের। জঙ্গিপুরের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগেভাগেই সচেতনতা বাড়িয়েছিল পুলিস। প্রচুর পুলিস মোতায়েন করা হয়েছিল। মুরারই স্টেশন সংলগ্ন লেভেল ক্রসিং গেটে প্রচুর রেল পুলিস মোতায়েন করা হয়েছিল। 

Advertisement

ওয়াকফ আইন নিয়ে সরব হয়েছেন মুসলিম সম্প্রদায় ছাড়াও অন্যান্য ধর্মের শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষজন। এদিন মুরারইয়ে সেভ ওয়াকফ কমিটির ব্যানারে আন্দোলনে নামেন এলাকার মানুষ। বিভিন্ন গ্রাম থেকে হাজার হাজার মানুষ এসে মুরারই নতুন বাজার মোড়ে জড়ো হন। সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ সেখান থেকে ওয়াকফ বিল প্রত্যাহারের দাবি সম্মিলিত প্ল্যাকার্ড হাতে বিশাল মিছিল বের হয়। এলাকার মসজিদের ইমাম, মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ ছাড়া শামিল হয়েছিলেন এলাকার বিধায়ক মোশারফ হোসেন, তৃণমূলের ব্লক সভাপতি বিনয় ঘোষ, তৃণমূলের রাজ্য সংখ্যালঘু সেলের নেতা আলি খান, জেলা পরিষদের দুই সদস্য প্রদীপ ভকত, সেরাজুল ইসলাম খান সহ অনেকে। মুরারই প্রদক্ষিণের পর ব্লক অফিসে এসে কয়েকজন প্রতিনিধি বিডিওকে ডেপুটেশন দেন। মিছিলের জেরে কার্যত অচল হয়ে পড়ে মুরারই বাজার। তীব্র যানজটের মাঝে পড়ে দুর্ভোগের শিকার হন বহু মানুষ। আন্দোলনকারীরা আগাম তাঁদের কর্মসূচি জানানোয় পুলিসের পক্ষ থেকে যান নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল টোটো চলাচল। দোকানপাট খুললেও খদ্দেরের দেখা মেলেনি। ফলে এদিন ব্যবসা মার খায়। তবে মিছিল হয়েছে শান্তিপূর্ণ। 
ওয়াকফ সেভ কমিটির সদস্য মহম্মদ সবুর আলি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের জনবিরোধী ওয়াকফ আইন কোনওমতেই আমরা মেনে নেব না। বিডিওকে ডেপুটেশনের মাধ্যমে কেন্দ্র সরকারকে এই বার্তা দিলাম যে, অবিলম্বে যেন এই আইন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। নতুবা আমরণ এই সংগ্রাম চালিয়ে যাব। অন্যদিকে বিধায়ক বলেন, বলা হচ্ছে গরিব মুসলিম সম্প্রদায়ের সুবিধার্থে এই আইন। কারা মুসলিম সম্প্রদায়ের কথা চিন্তা করছে, যাদের মুসলিম কোনও সাংসদ, বিধায়কও নেই। এটাই আশ্চর্য লাগছে! অনেকে বলছেন, আইনে পরিণত হয়েছে এখন আন্দোলন করে কী লাভ হবে। আমরা তাঁদের বলতে চাই, এই আইনের বিরোধিতায় সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছে। যখন এই আইনের প্রতিবাদে সারা ভারতবর্ষ জুড়ে মুসলিম সম্প্রদায় আন্দোলন করবে, তখন তাঁদের সেন্টিমেন্ট লক্ষ করবেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা। আশা রাখি মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষে রায়দান হবে। পাশাপাশি মাড়গ্রামের প্রতাপপুর মোড় থেকে ডাঙাপাড়া মসজিদ পর্যন্ত মিছিল বের করা হয়। সেখানে শাসক দলের নেতারাও ছিলেন। তৃণমূল নেতা মুস্তাক আহমেদ বলেন, এদিন মিছিলে হাজার তিনেক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অবিলম্বে এই 
আইন বাতিল না করলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামব। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ