নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পানীয় জলের সংযোগের নাম করে নেওয়া টাকা ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠল ডোমজুড়ের নিশ্চিন্দা এলাকার সাঁপুইপাড়া-বসুকাঠি গ্রাম পঞ্চায়েত চত্বর। শুক্রবার ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের একাংশের হাতে মার খেতে হল উপপ্রধান সৌমেন্দু গায়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরে উপপ্রধানকে উদ্ধার করে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনায় চাপের মুখে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন পঞ্চায়েত প্রধান।
জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের সংযোগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে বহু পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ছ’হাজার টাকা করে সংগ্রহ করা হয়। টাকা নেওয়ার সময় রসিদ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি বাসিন্দাদের। কিন্তু পরবর্তীকালে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে বিনামূল্যে পানীয় জলের সংযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর হলেও, ওই টাকা আর ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল এলাকায়। শুক্রবার সকালে পঞ্চায়েত অফিসের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বাসিন্দারা। ওঠে দুর্নীতির স্লোগান। সেই সময় উপপ্রধান সৌমেন্দু গায়েন পঞ্চায়েত অফিসে পৌঁছালে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে তাঁর দিকে ডিম ছোড়া হয়। তিনি কোনোক্রমে পঞ্চায়েত ভবনের ভিতরে ঢুকে পড়লেও ক্ষুব্ধ জনতার একাংশ তাঁকে বাইরে টেনে এনে রাস্তায় ফেলে মারধর করে।
স্থানীয় বাসিন্দা রমেন নস্করের অভিযোগ, বিনামূল্যে জলের সংযোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল। বহু বছর কেটে গেলেও সেই টাকা ফেরত পাইনি আমরা। তাই বাধ্য হয়েই এদিন প্রতিবাদে শামিল হয়েছি। অন্যদিকে, টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পঞ্চায়েত প্রধান দেবব্রত মণ্ডল। তাঁর দাবি, যে সময় টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল, তখন তিনি প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন না। পরে তিনি এই পদে আসেন। পাশাপাশি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এদিনই তিনি প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বলে জানান। ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।