নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: ‘রাজা রামমোহন রায় ব্রিটিশদের দালাল ছিলেন।’ মধ্যপ্রদেশের বিজেপির উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী ইন্দর সিং পারমারের করা মন্তব্যে ক্ষোভে ফুঁসছে খানাকুল। রামমোহনের জন্মস্থান খানাকুলের বাসিন্দারা এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন। কটাক্ষ করেছে তৃণমূলও।
রাজা রামমোহন রায়ের জন্মস্থান খানাকুলের রাধানগর। পরে তিনি পার্শ্ববর্তী রঘুনাথপুরে বসতবাড়ি তৈরি করেন। নবজাগরণের পথিকৃৎ ছিলেন রামমোহন। নারীশিক্ষা, সমাজ সংস্কারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা থাকায় রামমোহন বাঙালির মনে গেঁথে আছেন।
এখনও বহু মানুষ রামমোহনের বসতভিটে দেখতে আসেন। রঘুনাথপুরে রামমোহনের স্মৃতি বিজড়িত আম বাগান রয়েছে। ঘোষিত হয়েছে হেরিটেজও। এছাড়া, রাধানগর রামমোহন স্মৃতি কমিটিও রয়েছে। রামমোহনকে নিয়ে বিজেপির মন্ত্রীর এহেন অবমাননাকর মন্তব্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে। খানাকুলেও তার আঁচ পড়েছে। যদিও বিতর্কের মুখে পড়ে ওই মন্ত্রী পরে ক্ষমা চেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
রামমোহন গবেষক তথা সংশ্লিষ্ট কমিটির সম্পাদক দেবাশিস শেঠ বলেন, রামমোহন যখন জন্মেছিলেন, সেইসময় ভারত আধুনিকতার দিক থেকে অনেক পিছিয়ে ছিল। তখন রামমোহন ইংরেজি এবং পাশ্চাত্যের নবজাগরণকে মূল্য দিয়েছিলেন। এই দেশের মূর্খের দল তখন রামমোহনের এই আধুনিক মনস্কতাকে ইংরেজদের চাটুকারিতা বলে আখ্যা দিয়েছিল। কিন্তু আজকের সময়ে দাঁড়িয়েও দেশে এমন মূর্খ আছে বলে ধারণা ছিল না। ওই মন্ত্রীর বক্তব্য সেই ধারণাকে পরিষ্কার করল। একইসঙ্গে অবাক হলাম। তাঁর মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
এই প্রসঙ্গে রামনগর অতুল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অমিত আঢ্য বলেন, রামমোহনের কাজ সারা বিশ্ব জানে। আমরা তাঁর দেশের মানুষ হয়ে গর্বিত বোধ করি। কিন্তু তাঁকে নিয়ে এমন মন্তব্যে আমরা আহত হয়েছি। ওই মন্তব্যের নিন্দা জানাচ্ছি।
রামমোহনকে নিয়ে করা মন্তব্যে রাজনৈতিক তরজাও চলছে। আরামবাগের সাংসদ তথা সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের চেয়ারপার্সন মিতালি বাগ বলেন, বিজেপি বাংলা বিরোধী। রাজা রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথা রদ করেছিলেন। যাঁর অমর অবদানকে গোটা পৃথিবী শ্রদ্ধার সঙ্গে সম্মান করে। সেই রামমোহনকে ব্রিটিশদের দালাল ও ভুয়ো সংস্কারক বলা শুধু ইতিহাসের অপমান নয়, ভারতের নবজাগরণের উপর আক্রমণও। এই মন্তব্যের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। খানাকুলের মানুষ বিজেপির এই মনোভাবের জবাব দেবে।
পুরশুড়ার বিজেপির বিধায়ক বিমান ঘোষ বলেন, ওই মন্তব্য মন্ত্রীর ব্যক্তিগত। রাজা রামমোহন রায় আমাদের আদর্শ। তাঁকে আমরা মাথায় তুলে রাখি। তিনি আমাদের পথ প্রদর্শক। তাঁর জন্মস্থান এখানে হওয়ায় আমরা ধন্য। সারা পৃথিবীও ধন্য।