নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ডিভিসির মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাইয়ের দূষণের প্রতিবাদে সরব হলেন বাসিন্দারা। ওই ছাইয়ের দূষণে এলাকার চাষবাসের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এর আগে ডিভিসির তরফে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও তা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। গত প্রায় তিন বছর ধরে প্রতিশ্রুতি মতো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে না বলে চাষিদের অভিযোগ। ঘটনার প্রতিবাদে ও বকেয়া মেটানোর দাবিতে মঙ্গলবার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিভিন্ন গেটে বিক্ষোভ দেখানো হয়। গেট আটকে চাষিরা অবস্থান বিক্ষোভ করেন। সমস্যার সমাধানে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন তৎপর হয়েছে। প্রশাসনের মধ্যস্থতায় আজ, বুধবার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি আন্দোলনকারীরাও যোগ দেবেন।
বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, আমরা বৈঠক ডেকেছি। সেখানে ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে সমস্যা মেটানো হবে।
এব্যাপারে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের চিফ জেনারেল ম্যানেজার(প্রকল্প প্রধান) প্রদ্যুম্নপ্রসাদ শাহ বলেন, দু’টি আর্থিক বছরের ক্ষতিপূরণ বকেয়া পড়ে রয়েছে। ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে একটি কমিটি রয়েছে। জেলা প্রশাসনের তরফে বিষয়টি নির্ধারণ করা হয়। বুধবারের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। আন্দোলনকারীদের মধ্যে বুদ্ধদেব কর্মকার, কৃষ্ণচন্দ্র রায় বলেন, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাইয়ের দূষণে আমরা জেরবার হয়ে গিয়েছি। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের চারপাশে লটিয়াবনী ও নিত্যানন্দপুর অঞ্চলের বাঁকদহ, জামগাড়ি, হদলবনী, রাধাকৃষ্ণপুর সহ প্রায় ২০টি গ্রামের কয়েকশো বিঘা জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওইসব তিনফসলি জমিতে আর চাষ হয় না। সেকারণে ডিভিসি কর্তৃপক্ষ আমাদের দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষতিপূরণ দিয়ে আসছে। কিন্তু গত তিন আর্থিক বছরের ক্ষতিপূরণ আমরা পাইনি। তা মেটানোর দাবিতেই এদিন গেট আটকে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে। আমাদের সঙ্গে পরিবারের লোকজনও এদিনের বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিল। ক্ষতিপূরণ মেটানো না হলে আগামী দিনে অনির্দিষ্টকালের জন্য গেট আটকে অবস্থান বিক্ষোভ চলবে।
এদিকে বিক্ষোভের খবর পেয়ে এদিন ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ান বড়জোড়ার বিধায়ক অলোক মুখোপাধ্যায়। বিধায়ক বলেন, ছাইয়ের দূষণ বন্ধ ও ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে এর আগে এমটিপিএস কর্তৃপক্ষ একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু তারা তা পালন করেনি। চাষি ও স্থানীয়দের আন্দোলনের পাশে আমরা রয়েছি। আজ, বুধবার বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের তরফে সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক ডাক হয়েছে। বেলা ১টা নাগাদ ওই বৈঠকে সমাধানসূত্র বের হবে বলে আমরা আশাবাদী। এদিন জরুরি বিভাগে যাতে কাজ চালু থাকে তা দেখার জন্য আন্দোলনকারীদের আমি অনুরোধ করেছি।