Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রোগীর মৃত্যুতে তাণ্ডব নার্সিংহোমে, জখম ৬

রোগীর মৃত্যুতে তাণ্ডব নার্সিংহোমে, জখম ৬
  • ১৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: চিকিৎসায় গাফিলতিতে রোগী মৃত্যুর অভিযোগ তুলে পাণ্ডবেশ্বরের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে কার্যত তাণ্ডব চালাল রোগীর পরিবার ও পরিজনরা। সোমবার রাতের এই ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতেই ওই নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় পাণ্ডবেশ্বর ফুলবাগান মোড় এলাকার বাসিন্দা জাহ্নবী কুমারীর(১৬)। তারপরেই রোগীর পরিবার-পরিজন ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ক্ষুব্ধ হয়ে নার্সিংহোমের আসবাবপত্র, মূল্যবান যন্ত্রাংশ, ওটি ও অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ। নার্সিংহোমের নার্স সহ ছ’জন কর্মীকে মারধরও করে বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিস বাহিনী এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। চিকিৎসার পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নার্সিংহোমটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষর। ঘটনায় পুলিস মৃতার পরিবার-পরিজনদের ন’জনকে আটক করেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মঙ্গলবার মৃতদেহটি দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় পুলিস।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিল জাহ্নবী। রবিবার ভোররাতে তাকে ওই নার্সিংহোমে ভর্তি করেন মৃতার বাবা জিতেন্দ্র সাউ। ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত তাঁর চিকিৎসা চলে। শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক ভেবেই তাকে নার্সিংহোম থেকে বাড়ি নিয়ে যান জিতেন্দ্রবাবু। বাড়িতে গিয়ে ফের জাহ্নবীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এরপর রাত সাড়ে ৮ টা নাগাদ জাহ্নবীর মা তড়িঘড়ি তাকে ফের ওই নার্সিংহোমে নিয়ে আসেন। চিকিৎসা শুরু হতেই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃতার পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে নার্সিংহোমের নার্স থেকে কর্মীদের মারধর শুরু করে বলে অভিযোগ। আসবাবপত্র থেকে চিকিৎসার মূল্যবান যন্ত্র ভাঙচুর করা হয়। জিতেন্দ্রবাবু বলেন, আমার মেয়ে সুস্থই ছিল। দুঃশ্চিন্তা হচ্ছিল বলে নার্সিংহোমে ভর্তি করেছিলাম। বিকেলে বাড়ি নিয়ে গিয়েছিলাম। ফের ওর শরীর আনচান করছিল বলে আবারও নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে মেয়ের মৃত্যু হয়। সম্পূর্ণ চিকিৎসার গাফিলতির জন্য মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।
যদিও নার্সিংহোমের মালিক লাল্টু সিনহা বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। ওই রোগী যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত ছিল। তার ফুসফুসে গুরুতরভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসা চলাকালীন রোগীর বাবা জোর করে রোগীকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে গিয়েছে। আমরা বলেছিলাম ৭২ ঘণ্টা রোগীকে চিকিৎসার মধ্যে নজরদারিতে রাখতে হবে। তাও কথা না শুনে নিজের দায়িত্বে আমাদের কাছে সই করে নিয়ে যায়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শেষ মুহূর্তে ফের নার্সিংহোমে নিয়ে আসে। চিকিৎসা চলাকালীন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়। রোগীর পরিবারের লোকজন সহ প্রায় ৪০ জন মিলে নার্সিংহোম সম্পূর্ণ ভাঙচুর করে তছনছ করে ফেলে। নার্স সহ ছ’জন কর্মীকে মারধর করেছে। চিকিৎসার পরিকাঠামো ভেঙে পড়ায় আমরা ভর্তি থাকা রোগীদের ছেড়ে দিয়েছি। রোগীর পরিবারের বিরুদ্ধে পুলিসে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে।
এসিপি(অণ্ডাল) পিন্টু সাহা বলেন, নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ অভিযোগ দায়ের করেছে। ন’জনকে আটক করা হয়েছে। রোগীর পরিবারের তরফ থেকে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। সম্পূর্ণ ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ