সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: ২০১৬ সাল থেকে নেই প্রধান শিক্ষক। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সঠিকভাবে স্কুল পরিচালনা করছেন না। স্কুলে প্রধান ও সরকারি শিক্ষক নিয়োগ আটকে রাখা হয়েছে। মিড-ডে মিলেও অনিয়ম করছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। এমনই একাধিক অভিযোগ তুলে শনিবার সকালে ফরাক্কার ধুলিয়ান হাই মাদ্রাসায় বিক্ষোভ দেখালেন অভিভাবকরা। এই বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়েছে শিক্ষকদের একাংশ। যদিও অভিভাবক ও সহকারী শিক্ষকদের সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। ফরাক্কা চক্রের স্কুল পরিদর্শক(মাধ্যমিক) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এবিষয়ে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। স্কুলে কী ঘটেছে বা উনি কেন ভ্যাকেন্সি লিস্ট জমা করেননি] তা টিআইসি-ই ভালো বলতে পারবেন। মহকুমা স্কুল পরিদর্শক (মাধ্যমিক) সন্দীপ কোড়া বলেন, ভ্যাকেন্সি লিস্ট জমা করতে বলা হয়েছে। এতদিন কেন জমা করেননি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, ফরাক্কার ধুলিয়ান হাই মাদ্রাসায় বছর আটেক থেকে প্রধান শিক্ষক নেই। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাইজিদ হোসেন টিআইসির পদ সামলান। ভ্যাকেন্সি তালিকা শিক্ষাদপ্তরে জমা দেওয়া হয়নি। এদিকে প্রধান শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষকের শূন্যপদ ফাঁকা থাকায় স্কুল পরিচালনা থেকে পঠনপাঠন কার্যত শিকেয় উঠেছে বলে দাবি। স্কুলে প্রায় ৪০০০ ছাত্রছাত্রী রয়েছে। বহু ছাত্রছাত্রী স্কুলে আসে না। ছাত্র উপস্থিতি বেশি দেখিয়ে মিড-ডে মিলে দুর্নীতি হচ্ছে বলে অভিযোগ।
স্কুলের এক সহকারী শিক্ষক বলেন, স্কুলে ৬৭জন শিক্ষকের আসন ফাঁকা রয়েছে। উনি কেন শিক্ষাদপ্তরকে এসব তথ্য দিচ্ছেন না? অন্য প্রধান শিক্ষককে আসতে দিচ্ছেন না। অভিভাবক আল সাবির বলেন, কয়েক বছর ধরে স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই। পঠনপাঠন তেমন ভালো হয় না। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, শিক্ষাদপ্তরে ভ্যাকান্সি লিস্ট জমা দেওয়া রয়েছে। এবছর ডিআই অফিস আমার কাছে জানতে চাইনি। মিড-ডে মিলের অভিযোগও সঠিক নয়। তিনি বলেন, আমার স্ত্রী যোগ্যতা থাকায় নিয়ম মেনেই স্কুলে নিয়োগ পেয়েছে। আসল কথা হল, স্কুলে নিয়মশৃঙ্খলা কঠোর করায় কয়েকজন শিক্ষক এসব মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন।