নয়াদিল্লি: ফের প্রশ্নের মুখে দেশের রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা। তরুণীকে হেনস্তার প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিগৃহীত হলেন এক ব্যবসায়ী। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে এক অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে ইগনু রোডের ধারে চা খেতে দাঁড়ান মুকেশ কুমার (২৬)। পেশায় ব্যবসায়ী মুকেশ দিল্লির মেহরৌলি এলাকা বাসিন্দা। চায়ের দোকানে চারজন যুবক তিন মহিলাকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল মন্তব্য করে। প্রতিবাদ করে তাদের থামতে বলেন মুকেশ। কিন্তু তাঁর কথায় পাত্তা দেয়নি অভিযুক্তরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই চার যুবকের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন মুকেশ। এই সময় আচমকা ওই ব্যবসায়ীকে মারধর করতে শুরু করে চার যুবক। লাথি, ঘুসি, চড় চলতে থাকে। এমনকি মুকেশ অজ্ঞান হয়ে গেলেও অত্যাচার থামেনি বলে অভিযোগ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োতে নির্মম অত্যাচারের সেই দৃশ্য ধরা পড়েছে। ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় মুকেশকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয়রা। পরে এইমসের ট্রমা সেন্টারে স্থানান্তরিত করা হয় তাঁকে। গোটা ঘটনায় ক্ষুব্ধ মুকেশের মা বলেন, ‘আজকাল কাউকে সাহায্য করাও অপরাধ।’ চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থ হলে মুকেশ নিজেও বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় এমন পরিণতি হল। তাঁর উপর হওয়া অত্যাচারের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘এক মুসলিম পথচারী আমাকে বাঁচিয়েছিলেন। তাঁকে ধন্যবাদ।’ যে মহিলার হয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন মুকেশ, তিনিই পুলিশে ফোন করে খবর দেন। ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মুকেশের অভিযোগের ভিত্তিতে মেহরৌলি থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় তাদের নামে মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ধৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।



