সংবাদদাতা, লালবাগ: প্রেমিক-প্রেমিকাকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে প্রতিবাদ করেছিলেন পার্কের কর্মী। অভিযোগ, তার জেরেই প্রথমে প্রেমিক যুবকের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা, পরে ওই প্রেমিকের বাবা-মা সহ বেশ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র, বাঁশ নিয়ে এসে চড়াও হলেন ম্যানেজার ও কর্মীদের উপর। রবিবার বিকেলে লালবাগ প্রকৃতি তীর্থ পার্কে(মোতিঝিল) এঘটনায় শোরগোল পড়েছে। সংঘর্ষে পার্কের ম্যানেজার, এক কর্মী ও অপরপক্ষের দু’জন জখম হয়েছেন। খবর পেয়ে মুর্শিদাবাদ থানার পুলিশ পৌঁছে তাঁদের লালবাগ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। পার্কের এক কর্মী সেখানে চিকিৎসাধীন। বাকিদের মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
এঘটনায় রাতেই পার্ক কর্তৃপক্ষ মুর্শিদাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। ঘটনার পর প্রকৃতি তীর্থে একটি স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের দাবিতে কর্মীরা সরব হয়েছেন। জেলা পর্যটন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, রবিবার রাতে ম্যানেজার ও এক কর্মীকে মারধর করা হয়। মুর্শিদাবাদ থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।
মুর্শিদাবাদ থানার আইসি রাজা সরকার বলেন, মোতিঝিল পার্কের ম্যানেজারকে মারধরের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
রবিবার বিকেলে মোতিঝিল প্রকৃতি তীর্থ পার্কে ভালোই ভিড় ছিল। সেসময় কান্দির গোকর্ণ এলাকার এক যুবক তার প্রেমিকাকে নিয়ে পার্কে আসে। অভিযোগ, সেখানে তারা অশালীন আচরণ করছিল। প্রকৃতি তীর্থ পার্কে বহু পর্যটকের সমাগম হয়। অনেকেই সন্তানদের নিয়ে বেড়াতে আসেন। সেকারণে ওই প্রেমিকযুগলকে আপত্তিকর আচরণ থেকে বিরত থাকতে বলেন এক কর্মী। অভিযোগ, তাতেই রেগে গিয়ে ওই যুবক পার্ক কর্মীকে গালিগালাজ শুরু করে। বিষয়টি দেখে অন্য কর্মীরা এসে তখনকার মতো পরিস্থিতি সামাল দেন। যুবকের প্রেমিকা পার্ক ছেড়ে চলে যান। কিন্তু অভিযোগ, কিছুক্ষণ পরেই ওই যুবক ম্যানেজারের ঘরের সামনে এসে গালিগালাজ শুরু করে। ভিডিওকলে তার বাবাকে বলে, পার্কের কর্মীরা তাকে মারধর করেছে। এরপর পার্ক কর্তৃপক্ষ ওই যুবককে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে রাতে তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
কিন্তু সন্ধ্যা পৌনে ৭টা নাগাদ ওই যুবকের বাবা-মা সহ কয়েকজন মোতিঝিল পার্কে ঢোকে। অভিযোগ, তারা লাঠি, বাঁশ ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে এসেছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মী বলেন, চার-পাঁচজন দরজায় লাথি মেরে ম্যানেজারের ঘরে ঢুকে যায়। ম্যানেজারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। ম্যানেজার প্রতিবাদ করতেই তাঁকে বাঁশ, লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। পার্কের অন্য কর্মীরা এসে ম্যানেজারকে দুষ্কৃতীদের হাত থেকে বাঁচান।
অপর এক কর্মী বলেন, ওদের হাতে ধারালো অস্ত্র, বাঁশ, লাঠি থাকায় ভয়ে আমরা প্রথমে বাধা দিতে পারিনি। পরে সবাই মিলে রুখে দাঁড়াই। ঘটনার পর থেকে পার্কের সমস্ত কর্মী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
একবছর আগে সাইকেল ভাড়া ঘিরে বীরভূম জেলার নলহাটির একদল পর্যটক পার্কের কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল। সেই ঘটনায় দু’পক্ষের পাঁচজন জখম হয়েছিলেন। তাই এধরনের ঘটনা বন্ধে পার্কে স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের দাবি তুলেছেন কর্মীরা।