নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাদবপুর থানা এলাকার লায়েলকা মাঠে অসামাজিক কার্যকলাপের প্রতিবাদ করায় প্রহৃত হলেন দুই যুবক। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটে। দুই আক্রান্তের নাম সৌম্যদীপ সাহা ও রাতুল মণ্ডল। তাঁরা দু’জনই যাদবপুর বিধানসভা এলাকার বিজেপির যুব মোর্চার নেতৃস্থানীয় কর্মী বলে পরিচিত। অভিযোগের তির তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই আক্রান্তদের তরফে যাদবপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার রাত প্রায় আড়াইটে নাগাদ রাস্তায় বেরিয়েছিলেন বিজেপি কর্মী সৌম্যদীপ সাহা। সেই সময়েই লায়েলকা মাঠ সংলগ্ন এলাকায় এক যুগলকে অসামাজিক কাজকর্ম করতে দেখেন যুবক। সেই কাজের প্রতিবাদ করেন সৌম্যদীপ। দু’পক্ষ তীব্র বচসায় জড়িয়ে পড়েন। এরপরে আচমকাই যুগল সৌম্যদীপের ওপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ। রাস্তার ধারে পড়ে থাকা ইট দিয়ে সজোরে প্রতিবাদী যুবকের মুখে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত হন সৌম্যদীপ।
আক্রান্ত হওয়ার পর দলীয় সহকর্মীদের ডেকে পাঠান তিনি। বিজেপি কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছলে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাতে আহত হন বিজেপি যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রাতুল। হামলাকারীদের ইটের আঘাতে দু’জন বিজেপি কর্মীরই মাথায় গুরুতর চোট লাগে। পরে আহত দুই বিজেপি নেতাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, লায়েলকা মাঠ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অসামাজিক ব্যক্তিদের যাতায়াত এবং মদ ও নেশার আসর বসে। সেই বেআইনি কাজকর্মের বিরোধিতা করার কারণেই রাজনৈতিক আক্রোশে তাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। বিজেপি যুব মোর্চা সভাপতির দাবি, হামলাকারীরা নিজেদের তৃণমূলের কর্মী বলে পরিচয় দিয়েছিল। ঘটনাটি জানিয়ে শনিবার যাদবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আক্রান্তরা। যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় বলেন, যাদবপুরে কোনো অসামাজিক কাজকর্ম বরদাস্ত করা হবে না। হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। অন্যদিকে, নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, ওই ঘটনার সঙ্গে দলীয় রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই, স্থানীয়স্তরের ঝামেলা। এদিকে অভিযোগ পেয়েই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে যাদবপুর থানার পুলিশ। ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।