Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

অজুহাত না দিয়ে সংখ্যালঘুদের রক্ষা করুন, হিন্দু নেতা খুনে ঢাকাকে কড়া বার্তা দিল্লির

অজুহাত না দিয়ে সংখ্যালঘুদের রক্ষা করুন, হিন্দু নেতা খুনে ঢাকাকে কড়া বার্তা দিল্লির
  • ২০ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: বাংলাদেশে হিন্দু নেতা খুনের কড়া নিন্দা করে ঢাকাকে বার্তা দিল দিল্লি। গত বুধবার রাতে দিনাজপুর জেলার বাসুদেবপুরের বাসিন্দা ভবেশচন্দ্র রায় (৫৮) নামে ওই নেতাকে তুলে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করে দুষ্কৃতীরা। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। ভবেশ বাংলাদেশ পুজো উদযাপন পরিষদের সহ সভাপতি ছিলেন। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিস। শনিবার দিল্লির তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছে, মহম্মদ ইউনুসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাংলাদেশে হিন্দু সহ অন্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। এদিন বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘু নেতা ভবেশচন্দ্র রায়ের অপহরণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড আমাদের নজরে এসেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে হিন্দুদের উপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হচ্ছে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। আগে যে সব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলিতে অভিযুক্তদের শাস্তি না দেওয়ায় তারা অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে।’ ওই বার্তায় আরও বলা হচ্ছে, ‘আমরা এই ঘটনার নিন্দা করছি ও আবারও তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, তারা কোনও অজুহাত না দেখিয়ে বা ভেদাভেদ না করে হিন্দু সহ সব সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার দায়িত্ব পালন করুক।’

Advertisement

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, বুধবার বিকেলে ভবেশের কাছে একটি ফোন আসে। তিনি বাড়িতে আছেন কি না, জানতে চাওয়া হয়। তার আধ ঘণ্টার মধ্যেই চারজন বাইকে চেপে এসে ভবেশকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাঁকে নারাবাড়ি গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভবেশকে বেধড়ক মারধর করে ওই দুষ্কৃতীরা। ভবেশ অচৈতন্য হয়ে পড়লে তাঁকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যায় তারা। এরপর দিনাজপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ভবেশকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
এদিকে, পদ্মাপারের দেশে হিন্দু নির্যাতন নিয়ে সরব হয়েছে কংগ্রেসও। দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের দাবি, সম্প্রতি ইউনুসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৈঠক করার পরেও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি। খাড়্গে বলেছেন, ‘বাংলাদেশে হিন্দু ভাই-বোনেরা ক্রমাগত নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। ভবেশচন্দ্র রায়ের নৃশংস খুনেই প্রমাণ হচ্ছে যে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে।’ যদিও বিজেপি পাল্টা দাবি করেছে, ওই বৈঠক ভারতের বিদেশ নীতির অঙ্গ ছিল।
বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ফের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আমেরিকা। মার্কিন নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অপহরণের ঘটনা ঘটছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের টার্গেট করা হচ্ছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ও রাজনৈতিক সংঘর্ষ বিদেশি নাগরিকদের কাছে আরও ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইইডি বিস্ফোরণ ও গুলি চলার ঘটনাও ঘটেছে। তাই কোথাও যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলতে হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ