Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

বুমরাহর পঞ্চবাণে বিদ্ধ প্রোটিয়ারা

টসের পর সামনে এল চমকে ওঠার মতোই টিম লিস্ট। প্রথম একাদশে চার স্পিনার।

বুমরাহর পঞ্চবাণে বিদ্ধ প্রোটিয়ারা
  • ১৫ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত বেরা, কলকাতা: টসের পর সামনে এল চমকে ওঠার মতোই টিম লিস্ট। প্রথম একাদশে চার স্পিনার। পরীক্ষা-নিরীক্ষার অঙ্গ হিসেবে কুলদীপ-জাদেজা-সুন্দরের সঙ্গে সুদর্শনের জায়গায় জুড়ে দেওয়া হলো অক্ষরকেও। পরিসংখ্যান ঘেঁটে জানা গেল, ২০১২ সালে নাগপুরে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষবার চার স্পিনার খেলিয়েছিল ভারত। সেখানে সিরিজ বাঁচানোর তাগিদ ছিল। ইডেনে ফ্রিডম সিরিজের প্রথম টেস্ট। ঘরের মাঠে ঘূর্ণি পিচে ম্যাচ জেতাই লক্ষ্য। তবে এতটা আগ্রাসী না হলেও পারতেন কোচ গৌতম গম্ভীর। কিন্তু স্পিনাররা নন, পেসারদের দৌলতেই টস জিতে ব্যাট করতে নামা দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৫৯ রানে গুটিয়ে দিল ভারত।

Advertisement

ইডেনে প্রথমবার টেস্ট খেলতে নেমে ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়ে দিনের নায়ক বুমরাহ। কেরিয়ারে এই নিয়ে ১৬বার। সিরাজের দুটো উইকেট ধরলে পেসারদের সংগ্রহ সাতটা শিকার। তাহলে কি পিচ বুঝতে পারেনি ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট? হাওয়া যখন পক্ষে বইছে, তখন এই আলোচনা অপ্রাসঙ্গিক। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৫৯ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর জবাব দিচ্ছে ভারত। দিনের শেষে স্কোর ১ উইকেটে ৩৭। যশস্বী জয়সওয়াল উইকেট ছুড়ে দিলেও লোকেশ রাহুল ভরসা জোগাচ্ছেন। ১৩ রানে ক্রিজে। তাঁর সঙ্গী ওয়াশিংটন (৬)। চোটের কারণে রাবাডা নেই। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বড় রানের লিড নিশ্চিত করা উচিত ভারতের। মনে রাখতে হবে, এই পিচে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করা সহজ হবে না। 
ওপিনিয়ন পোল কিংবা এক্সিজট পোল কিছুই মিলল না। শুরুটা দেখে বোঝা যায়নি বিহারের নির্বাচনে মহাজোটের মতো হাল হবে প্রোটিয়া বাহিনীর। ওপেনিং জুটিতে ৫৭। নতুন বলে বড়ই ম্যাড়ম্যাড়ে লাগছিল সিরাজকে। অগত্যা সাত ওভারেই আনা হল স্পিনার। কিন্তু তাতেও লাভ কিছু হল না। শেষ পর্যন্ত বুমরাহই দিলেন ভরসা। ঘণ্টায় ১৪০ কিমিতে ধেয়ে আসা বলটা ভিতরে ঢুকে ছিটকে দিল রিকেলটনের (২৩) স্টাম্প। ক্ষুধার্ত বাঘের মতোই রক্তের স্বাদ পেয়ে যান বুমবুম। আরও উজ্জীবিত হয়ে ওঠেন তিনি। কিছুক্ষণের মধ্যে দিনের সেরা ডেলিভারিতে ফেরান মার্করামকে (৩১)। দুরন্ত ক্যাচ ধরেন ঋষভ। অল্পের জন্য বুমরাহর বলে লেগ বিফোর হতে হতে বাঁচেন বাভুমা। শেষ পর্যন্ত কুলদীপের শিকার হন তিনি। ধাক্কা সামলে পাল্টা লড়াই ছুড়ে দেন মুল্ডার ও জর্জি। কিন্তু লাঞ্চের পর একই ছবি, আবার সেই বুমবুম ম্যাজিক। পাশাপাশি ভুল শুধরে জ্বলে ওঠেন সিরাজও। একই ওভারে জোড়া উইকেট নিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের কোমরটাই ভেঙে দেন ‘মিয়াঁ’। চা পানের বিরতির আগেই ভেন্টিলেশনে ঢুকে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখান থেকে আর বেরতে পারেনি তারা।
বুমরাহর দুটো স্পেলই মূলত শেষ করে দিল প্রোটিয়াদের। প্রথম স্পেলে ৭-৪-৯-২। তৃতীয় স্পেলটা আরও ভয়ঙ্কর (২-০-৪-২)। চা পানের বিরতির পর নিজের দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় ডেলিভারিতে হার্মারের উইকেট ছিটকে দেন বুমবুম। দর্শকরা বুঝে গিয়েছিলেন, প্রোটিয়া বাহিনীর অল-আউট হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। ক্লাব হাউস প্রান্ত থেকে তিনি দৌড় শুরু করতেই গর্জে উঠছিল গ্যালারি। টেস্ট ক্রিকেটে এমন ছবি সত্যিই বিরল। ৩৬ হাজারের বেশি দর্শকের মাঠে আসা তো বুমরাহর মতো তারকাদের জ্বলে ওঠার সাক্ষী থাকতে। হতাশ করেননি বিশ্বের অন্যতম সেরা পেসার। ইনসুইং ইয়র্কার মহারাজের পায়ে লাগতেই জোরাল আপিল। আম্পায়ার রড টাকার আউট দিতেই  দু’হাত শূন্যে ছুড়ে স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে রইলেন নায়ক। মাঠ ছাড়লেন প্রবল করতালিতে। হাতে পাঁচ উইকেট নেওয়া বল। টেস্টের প্রথম দিন ইডেনের রিং টোন শুধুই— বুমবুম!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ