সৌরাংশু দেবনাথ, কলকাতা: হাতে ব্যাট নেই, দাঁড়িয়েছেনও উল্টো। তবু ক্রিজে যিনি ডানহাতে শ্যাডো করছেন নাম তাঁর সৌরভ গাঙ্গুলি। আর পাশেই বাধ্য ছাত্রের মতো দাঁড়িয়ে তেম্বা বাভুমা। কীভাবে এই পিচে খেলা উচিত, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নজয়ী ক্যাপ্টেন যেন হাজির সেই মাস্টারক্লাসে। হবেন নাই বা কেন? যতই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টে শ্রেষ্ঠত্বের তাজ মাথায় উঠুক, ভারতকে হারিয়ে জয়পতাকা ওড়ানোই যে দক্ষিণ আফ্রিকার ‘অ্যাম্বিশন’। আগামী দু’সপ্তাহ যা শয়নে-স্বপনে মাঠে তাড়া করবে প্রোটিয়াদের। ইডেনে নামার আগে তাই ‘দাদা’র টিপস নেওয়া। গঙ্গাপাড়ের স্টেডিয়ামে সাফল্যের চাবিকাঠি সৌরভের থেকে ভালো আর কে জানেন!
অবশ্য কয়েক সপ্তাহ আগে কেন উইলিয়ামসনের পরামর্শও পেয়েছেন বাভুমা। বেশি কিছু নয়, মুম্বইয়ে এক অনুষ্ঠানে কিউয়ি তারকা বলেছিলেন টসের গুরুত্বের কথা। ভারতে টেস্ট জিততে হলে আগে টসভাগ্য চাই। বছরখানেক আগে নিউজিল্যান্ডের কাছেই ০-৩ হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল গৌতম গম্ভীরের ছাত্ররা। সেই সিরিজে দু’বার টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছিলেন টম লাথাম। কোনও সন্দেহ নেই, শুক্রবার সকালেও টস গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। জয়ী ক্যাপ্টেন নিশ্চিতভাবেই প্রথমে ব্যাট করে রানের বোঝা চাপাতে চাইবেন বিপক্ষের ঘাড়ে। কিন্তু প্রোটিয়া শিবিরের গেমপ্ল্যানে ভাগ্যের বিশেষ জায়গা নেই। পেস, স্পিন— উভয় বিভাগেই রীতিমতো শক্তিশালী তারা। ব্যাটসম্যানরাও উপমহাদেশের পিচের সঙ্গে ধাতস্থ। তার উপর ডব্লুটিসি ফাইনালে রান তাড়া করে জয়ের পর ম্যান্ডেলার দেশের ড্রেসিং-রুম জমাট বাঁধা আত্মবিশ্বাসেরই প্রতীক। চুম্বকে, হালফিল ঘরের মাঠে টিম ইন্ডিয়া এমন কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হয়নি!
আরও গুরুত্বপূর্ণ হল, ভারতকে বশ মানানোর চোয়ালচাপা প্রতিজ্ঞাই অ্যাওয়ে ড্রেসিং-রুমের আনাচে কানাচে। বাভুমা তো বলেই দিলেন, ‘টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার পর আর জয়ের জন্য বিশেষ কিছু পড়ে থাকে না। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে ভারতে জেতাটাও তার চেয়ে কম চ্যালেঞ্জের নয়। অনেক বছর ধরেই এদেশে আমরা টেস্ট জিতিনি। আমাদের কারও কারও অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতাও রয়েছে। আর তাই ভারতকে হারানোই আমাদের অ্যাম্বিশন।’ স্বয়ং বাভুমারও ইডেনের অভিজ্ঞতা সুখের নয়। দু’বছর আগে বিশ্বকাপের ম্যাচে হেরেছিল তাঁর দল। এবারের স্মৃতি মধুর করতে সেজন্যই তাঁরা মরিয়া।
কুলদীপ যাদব অবশ্য সেই লক্ষ্যে কাঁটার মতো বিঁধতে পারেন। কোন বলটা ভিতরে আসবে, কোনটা বাইরে যাবে, চায়নাম্যানকে বোঝা মুশকিল। নেটেই পরিষ্কার, ভারতীয় স্পিনারদের বিরুদ্ধে সুইপ, রিভার্স সুইপ, ক্রিজ ছেড়ে বেরনোই হতে চলেছে আইডেন মার্করাম, টনি ডি জর্জিদের স্ট্র্যাটেজি। হয়তো কুলদীপই পারেন সেই রণকৌশল চুরমার করতে। সাধে কুলদীপের মুখোমুখি হতে না চাওয়ার কথা শোনান বাভুমা!