Bartaman Logo
১১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

ড্রাই শ্যাম্পুর ভালো-মন্দ

ড্রাই শ্যাম্পুর সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করেছেন কসমেটিক সার্জন ডাঃ রেশমা বানু। কীভাবে ব্যবহার করবেন জানতে পড়ুন।

ড্রাই  শ্যাম্পুর  ভালো-মন্দ
  • ১১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

কারা ব্যবহার করবেন? পরামর্শে কসমেটিক সার্জন ডাঃ রেশমা বানু।

Advertisement

•ইঁদুর দৌড়ে শামিল সকলে। ব্যস্ত জীবনে সময় বাঁচানোই প্রধান লক্ষ্য। আচমকা কোথাও বেরতে হলে অনেক সময়ই চুল ধোয়ার সুযোগ থাকে না। এই সময় মুশকিল আসান ড্রাই শ্যাম্পু। 
ড্রাই শ্যাম্পু কী 
চুলের যত্নে এটি একটি স্মার্ট প্রোডাক্ট। জল ব্যবহার না করেই চুল সতেজ ও পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। বিশেষ পরিস্থিতিতে চুল ফ্রেশ রাখার জন্য ড্রাই শ্যাম্পু ভীষণ কার্যকর। স্ক্যাল্পে জমে থাকা অতিরিক্ত তেল, ঘাম  শোষণ করে নেয়। এর ফলে মাত্র পাঁচ মিনিটেই চুল পরিষ্কার ও ঝরঝরে দেখায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিউটি ভ্লগার ও সেলেবদের নিয়মিত ব্যবহারের ফলে বর্তমানে ট্রেন্ডে এই ড্রাই শ্যাম্পু। 
কী কী উপাদান থাকে 
ড্রাই শ্যাম্পুর প্রধান উপাদান সাধারণত কর্ন স্টার্চ বা রাইস স্টার্চ। এই উপাদানগুলো স্ক্যাল্পের অতিরিক্ত তেল শোষণ করতে সাহায্য করে। বর্তমানে অনেক উন্নত ড্রাই শ্যাম্পুর মধ্যে আরও কিছু উপাদান যোগ করা হচ্ছে। 
• ওট মিল্ক ও চারকোল: অতিরিক্ত তেল শোষণে সাহায্য করে।
• অ্যালোভেরা: চুল মসৃণ রাখে।
• নিয়াসিনামাইড: খুশকির সমস্যা কমাতে সহায়ক।
• হোয়াইট টি পাউডার: স্ক্যাল্পের জ্বালা বা ইরিটেশন কমাতে সাহায্য করে।
কীভাবে ব্যবহার করবেন 
ড্রাই শ্যাম্পু মূলত দুই ধরনের ফর্মে পাওয়া যায়। স্প্রে ফর্ম ও পাউডার ফর্ম। স্প্রে ফর্মে সাধারণত অ্যালকোহল মিশ্রিত থাকে, যা স্প্রে আকারে চুলে প্রয়োগ করা যায়। অন্যদিকে পাউডার ফর্মে স্টার্চজাত উপাদান থাকে। ব্যবহার করার সময় প্রথমে চুল কয়েকটি ভাগে ভাগ করতে হবে। তারপর স্প্রে হলে চুল থেকে কিছুটা দূরে ধরে প্রতিটি সেকশনে এক-দু’বার স্প্রে করতে হবে। পাউডার হলে আঙুল বা প্যাড দিয়ে হালকা করে স্ক্যাল্পে লাগাতে হবে। এরপর কয়েক মিনিট অপেক্ষা করতে হবে, যাতে স্টার্চ অতিরিক্ত তেল শোষণ করতে পারে। তারপর স্ক্যাল্পে হালকা মাসাজ করে ভালো করে ব্রাশ করতে হয়। স্টার্চের কারণে অনেক সময় চুলে সাদা ছোপ দেখা যায়। এই সমস্যা এড়াতে বর্তমানে টিনটেড ও ট্রান্সলুসেন্ট ড্রাই শ্যাম্পু পাওয়া যায়। ট্রান্সলুসেন্ট ড্রাই শ্যাম্পু সাধারণত গ্রে বা হালকা বাদামি চুলের জন্য উপযোগী। আর টিনটেড ড্রাই শ্যাম্পু গাঢ় বাদামি বা কালো চুলের জন্য ব্যবহার করা হয়, যাতে সাদা দাগ চোখে না পড়ে। এখন অনেক জায়গায় ফোম ড্রাই শ্যাম্পুও পাওয়া যায়। 
সুবিধা কী কী
ড্রাই শ্যাম্পুর সবচেয়ে বড়ো সুবিধা হল দ্রুত ব্যবহার করা যায় এবং জল বা সময়ের প্রয়োজন হয় না। ভ্রমণের সময় এটি খুবই উপযোগী। এটি চুলে টেক্সচার ও ভলিউমও যোগ করে।
অসুবিধা কোথায়
ড্রাই শ্যাম্পুর কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এটি চুল পরিষ্কার করে না, কেবল অতিরিক্ত তেল শোষণ করে। তাই ড্রাই শ্যাম্পু সাধারণ শ্যাম্পুর বিকল্প নয়। ড্রাই শ্যাম্পু নিয়মিত বা অতিরিক্ত ব্যবহার করলে স্ক্যাল্পে জ্বালা, চুলকানি হতে পারে। অনেক সময় হেয়ার ফলিকল বন্ধ হয়ে গিয়ে ফলিকিউলাইটিসের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। 
শান্তনু দত্ত 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ