নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পথশ্রী প্রকল্পে একগুচ্ছ রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে হুগলি জেলা পরিষদ। জেলার প্রতিটি ব্লকের চাহিদার নিরিখে অন্তত ৪০টি রাস্তার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তারমধ্যে প্রথম দফায় ২০টি রাস্তার জন্য সরকারি বরাদ্দ চেয়ে তালিকা পাঠাচ্ছেন জেলা পরিষদের কর্তারা। প্রতিটি রাস্তা বাংলা সড়ক যোজনার রাস্তার সংযোগকারী হিসেবে তৈরি করা হবে। অর্থাৎ মূল সড়কে পৌঁছনোর জন্য একাধিক গ্রামের উপর দিয়ে যাবে রাস্তাগুলি। প্রতিটা রাস্তা অন্তত তিন কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। প্রাথমিকভাবে ২০টি রাস্তার জন্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা চেয়ে প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।
হুগলি জেলা পরিষদের কর্তাদের দাবি, এখন স্যাটেলাইট ম্যাপ সহ রাস্তার নকশা তৈরি করতে হয়। পাশাপাশি, একাধিক গ্রামের সংযোগসূত্র হিসেবে রাস্তাগুলিকে গড়ে তোলার কথা ভাবা হয়েছে। সেকারণে কিছুটা সময় লেগেছে। তবে সরকারি বরাদ্দ পেতে সময় লাগবে না। সেকারণেই প্রস্তাব পেশ করার পাশাপাশি অন্যান্য বিধিবদ্ধ কাজগুলি সেরে রাখা হবে। যাতে বরাদ্দ মিললেই কাজে নেমে পড়া যায়। দুর্গাপুজোর পরে অর্থাৎ অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে কাজে নেমে পড়া যাবে বলে জেলা পরিষদের কর্তারা মনে করছেন।
হুগলি জেলা পরিষদের মেন্টর সুবীর মুখোপাধ্যায় বলেন, রাজ্য সরকার তথা আমাদের মুখ্যমন্ত্রী ‘পথশ্রী’ প্রকল্পে রাস্তার জন্য সব সময় দরাজ হস্ত হয়ে রয়েছেন। তাই টাকা পেতে সমস্যা হবে না। আমরা নির্দিষ্টভাবে পরিকল্পনা করেই রাস্তা বাছাই করেছি। ফলে কিছুটা সময় লেগেছে। কিন্তু সব কাজ শেষ করে রাখা হচ্ছে। যাতে টাকা পাওয়ামাত্র কাজে নেমে পড়া যায়। হুগলি জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধাড়া বলেন, একাধিক গ্রামের মানুষ যাতে সহজে বড় রাস্তায় পৌঁছতে পারেন, এমন রাস্তা আমরা তৈরি করছি। কিছু ক্ষেত্রে বিকল্প বা বাইপাস রাস্তা তৈরির কথা ভাবা হয়েছে। মোটের উপর জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিতে একটি সুসংহত পরিকল্পনা করা হয়েছে।
২০১৯ সাল থেকে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে পাখির চোখ করে জেলা পরিষদ নিজের মতো পরিকল্পনা তৈরি করেছে। তার ফলস্বরূপ, গ্রামীণ হুগলিতে অগুন্তি রাস্তা তৈরি করেছে জেলা পরিষদ। পরবর্তীকালে রাজ্য সরকার পথশ্রী-রাস্তাশ্রী প্রকল্প হাতে নেয়। সেই তালিকাতেও জেলায় একগুচ্ছ রাস্তা তৈরি হয়েছে। কৃষিপ্রধান এলাকায় কৃষকদের উপযোগী রাস্তাও তৈরি হয়েছে হুগলিতে। এবার বাংলা সড়ক যোজনার প্রধান প্রধান রাস্তাগুলিকে সরাসরি বা বাইপাস করে একাধিক গ্রামের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ‘রাস্তা দিয়ে গ্রাম জোড়ো’-এর ওই পরিকল্পনাকে ২০২৬ সালের আগেই বাস্তবায়িত করতে চাইছেন জেলা পরিষদের কর্তারা।