নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০০’র বেশি সহকারী শিক্ষকের পদোন্নতি হতে চলেছে। তাঁরা প্রধান শিক্ষক মনোনীত হবেন। এবিষয়ে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের তরফে রাজ্যের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে জুলাই মাসেই কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে। শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিতর্কের মাঝে এবিষয়ে জেলার শিক্ষামহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(প্রাথমিক) জগবন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০০’র কিছু বেশি প্রধান শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। মূলত প্রধান শিক্ষকদের অবসর ও বদলির জেরে ওই সমস্ত পদ এখন শূন্য। সুষ্ঠুভাবে পঠনপাঠন ও স্কুলের প্রশাসনিক কাজকর্ম চালানোর জন্য ওই সমস্ত শূন্যপদে তাড়াতাড়ি নিয়োগ করা প্রয়োজন। সেকারণে আমরা রাজ্যে শিক্ষকদের তালিকা সহ প্রস্তাব পাঠিয়েছি। তা অনুমোদিত হলে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকেই কাউন্সেলিং শুরু হবে। বাঁকুড়ায় এখন ৩৫৬৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ওই সমস্ত বিদ্যালয়ে ৯৬৬২জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। জেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র-শিক্ষক ভারসাম্য বজায় রাখতে শিক্ষকদের ব্যাপক হারে বদলি করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণের বিষয়েও শিক্ষাদপ্তর উদ্যোগী হয়েছে। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষক হওয়ার জন্য ন্যূনতম পাঁচবছর স্কুলে শিক্ষকতা করতে হবে। ২০০৫সালের ৩১ডিসেম্বরের আগে পর্যন্ত যে শিক্ষকরা কাজে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের মাধ্যমিক পাশ যোগ্যতা ও পিটিটিআই কোর্স করা থাকলেই হবে। কিন্তু ২০০৬ সাল থেকে চাকরি পাওয়া শিক্ষকদের ক্ষেত্রে উচ্চ মাধ্যমিকে ৫০শতাংশ নম্বর ও ডিএলএড কোর্স থাকতে হবে। জেলা শিক্ষাদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, বিভিন্ন চক্র থেকে অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকরা শূন্যপদ ও শিক্ষকদের বিষয়ে আমাদের কাছে বিস্তারিত তথ্য পাঠিয়েছেন। পদোন্নতির ক্ষেত্রে সহকারী শিক্ষকদের চাকরিতে সিনিয়রিটি দেখা হচ্ছে। একই দিনে দুই বা ততোধিক শিক্ষকের জয়েনিংয়ের তারিখ থাকলে, যাঁর বয়স বেশি, তিনি অগ্রাধিকার পাবেন। এভাবেই আমরা কাউন্সেলিংয়ের তালিকা তৈরি করেছি। তালিকা ধরে প্রথম থেকে পরপর শিক্ষকরা পছন্দের স্কুলে বদলি হওয়ার সুযোগ পাবেন। সেখান থেকেই প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবনের নতুন ইনিংস শুরু করবেন তাঁরা।



