Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জনসংখ্যা ৪ লক্ষ, নাভিশ্বাস পুলিসের, বাঁকুড়া সদর থানা ভাগের প্রস্তাব গেল রাজ্যে

জনসংখ্যা ৪ লক্ষ, নাভিশ্বাস পুলিসের, বাঁকুড়া সদর থানা ভাগের প্রস্তাব গেল রাজ্যে
  • ১৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: পাহাড়প্রমাণ চাপে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিসের নাভিশ্বাস উঠেছে। প্রায় চারলক্ষ জনসংখ্যার ওই থানা এলাকায় নজরদারি চালাতে পুলিসের কর্মী-আধিকারিকদের বেশিরভাগ সময় রাতদিন টানা কাজ করতে হচ্ছে। একটি পুরসভা ও দু’টি ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিস হিমশিম খাচ্ছে। সেকারণে বাঁকুড়া জেলা পুলিসের তরফে সদর থানা ভেঙে দু’টি পৃথক থানা করার প্রস্তাব রাজ্যস্তরে পাঠানো হল। রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তর ওই প্রস্তাবে অনুমোদন দেবে বলে জেলা পুলিসের কর্তারা আশা করছেন।

Advertisement

জেলার পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, বাঁকুড়া সদর থানাকে দু’ভাগে ভাগ করার প্রস্তাব রাজ্যস্তরে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বাঁকুড়া পুরসভা ও বাঁকুড়া-১ ব্লক এই থানার মধ্যেই থাকবে। বাঁকুড়া-২ ব্লক নিয়ে পৃথক থানা গঠনের প্রস্তাব আমরা পাঠিয়েছি। আশা করছি, এবিষয়ে অনুমোদন পাওয়া যাবে। বাঁকুড়া সদর থানার আওতায় ৪৩৯ বর্গকিমি এলাকা রয়েছে। জনসংখ্যা ৩ লক্ষ ৮৫ হাজার ৯২০। তার মধ্যে ১লক্ষ ৯৯হাজার ৫৬১জন পুরুষ ও ১লক্ষ ৮৬হাজার ৩৫৯জন মহিলা। বাঁকুড়া শহরের পাশাপাশি বাঁকুড়া ১ ও ২ ব্লক এই থানার আওতায়। প্রায় চারলক্ষ জনসংখ্যার জন্য বাঁকুড়া সদর থানায় মাত্র ২১জন পুলিস আধিকারিক রয়েছেন। কনস্টেবল রয়েছেন মাত্র ৪৩জন। স্থায়ী পুলিসকর্মীর সংখ্যা কম হওয়ায় এনভিএফ, হোমগার্ড, সিভিক ভলান্টিয়ারদের দিয়ে বেশিরভাগ সময় কাজ চালাতে হচ্ছে। সদর থানার এক আধিকারিক বলেন, থানার জন্য বরাদ্দ সমস্ত কর্মী-আধিকারিক যে এক জায়গায় থাকেন, তা নয়। থানার অধীনে বাঁকুড়া শহর ও গ্রামীণ এলাকায় পাঁচটি ফাঁড়ি রয়েছে। সেখানেও অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর ও কনস্টেবলরা নিযুক্ত রয়েছেন। ফলে গুটিকয়েক কর্মী-আধিকারিককে নিয়ে থানা চালাতে হয়। থানা এলাকায় ৩৬কিমি জাতীয় সড়ক ও ৩০কিমি রাজ্য সড়ক রয়েছে। বাঁকুড়া শহরের চারদিকেই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা আছে। সেখানে পুলিসকে টহল দিতে হয়। প্রায়দিনই ছোটবড় দুর্ঘটনা ঘিরে যানজট ও মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়। বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও থানা এলাকার ২২টি নার্সিংহোমেও মাঝেমধ্যে গণ্ডগোল হয়। এসব ক্ষেত্রে পুলিস মোতায়েন করতে হয়। এছাড়া, শহরে রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের বিক্ষোভ-ডেপুটেশন কর্মসূচি লেগেই থাকে। সেখানেও পুলিসকে থাকতে হয়। এছাড়া, প্রায়দিনই ভিআইপিরা এই থানা এলাকা দিয়ে যাতায়াত করেন। সেটাও পুলিস খেয়াল রাখে। তার মধ্যে বড় কোনও ঘটনা ঘটলে চাপ আরও বেড়ে যায়। কোনও কোনও দিন নাওয়া-খাওয়ার সময় মেলে না। সদর থানার উপর যা চাপ, তাতে অন্তত তিনটি থানা গঠন করা উচিত। বাঁকুড়া টাউনকে নিয়েই একটি পৃথক থানা তৈরি প্রয়োজন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ