Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সমবায় গড়ে মিনি কোল্ডস্টোর গড়ার প্রস্তাব, সব্জি টাটকা থাকবে ২৭ দিন পর্যন্ত

সমবায় গড়ে মিনি কোল্ডস্টোর গড়ার প্রস্তাব, সব্জি টাটকা থাকবে ২৭ দিন পর্যন্ত
  • ১২ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: চাষিদের লোকসান ঠেকাতে সব্জি সংরক্ষণের জন্য সমবায় গড়ে মিনি কোল্ড স্টোর গড়ার পরামর্শ দিলেন আধিকারিকরা। মঙ্গলবার বিষ্ণুপুরে কৃষকদের বিকল্প উৎপাদন হিসাবে উদ্যানপালনে উৎসাহিত করার জন্য দু’দিনের প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়। সেখানেই কৃষি আধিকারিকরা সমবায় ভিত্তিতে মিনি কোল্ড স্টোর গড়ার ব্যাপারে পরামর্শ দেন। তাঁরা জানিয়েছেন, চাহিদার তুলনায় ফসল উৎপাদন বেশি হলে স্বাভাবিকভাবে দাম কমে যায়। সংরক্ষনের সুবিধা না থাকায় ফড়েরা সেই সুযোগের সদব্যবহার করেন। তাই চাষিরা নিজ নিজ এলাকায় সমবায় ভিত্তিতে মিনি কোল্ড স্টোর স্থাপন করলে সেই সমস্যা মিটবে। এবং এব্যাপারে আগ্রহী হলে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদানেরও ব্যবস্থা রয়েছে। আজ বুধবার বিষ্ণুপুর থেকে বাসে করে প্রশিক্ষণার্থী কৃষকদেরকে সোনামুখীতে থাকা তিনটি মিনি কোল্ড স্টোর পরিদর্শনে নিয়ে যাওয়া হবে। এদিনের শিবিরে উপস্থিত ছিলেন বিষ্ণুপুরের মহকুমাশাসক প্রসেনজিৎ ঘোষ, রাজ্য বীজ নিগমের ডিরেক্টর এবং হর্টিকালচার অ্যাডভাইসরি কমিটির সদস্য শুভাশিস বটব্যাল। এছাড়াও কৃষি ও  হর্টিকালচার দপ্তরের এক ঝাঁক আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন।  

Advertisement

শুভাশিসবাবু বলেন,সোনামুখীতে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র এবং কমপ্রিহেনসিভ এরিয়া ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনে মোট তিনটি মিনি কোল্ড স্টোর স্থাপন করা হয়েছে। ১০টন পর্যন্ত সব্জি সেখানে সংরক্ষণ করা যাবে। এবং ওই স্টোরে ২৭দিন পর্যন্ত সবজি তরতাজা থাকবে। একজন চাষির পক্ষে মিনি কোল্ড স্টোর তৈরি করা সম্ভব নয়। তাই চাষিরা নিজ নিজ এলাকায় সমবায় গড়ে তা স্থাপন করতে পারেন। সেক্ষেত্রে কৃষিদপ্তর সর্বোতোভাবে সাহায্য করবে। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী কৃষকদের কথা সবসময় ভাবেন। তাঁদের সুবিধা হবে এমন পদক্ষেপে তিনি ভীষণ উৎসাহ বোধ করেন। তাই আমরাও সহযোগিতা করব। প্রশিক্ষণরত কৃষকদেরকে মিনি কোল্ড স্টোর দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। 
হর্টিকালচার বিভাগের আধিকারিকরা বলেন, বাঁকুড়া জেলার মধ্যে বিষ্ণুপুর মহকুমাতেই সবচেয়ে বেশি চাষবাস হয়। আলু,ধান, কপি সহ মরশুমি নানান ধরনের সব্জি কৃষকরা ফলান। কিন্তু চাষিদের মধ্যে একই ফসল একই সঙ্গে ফলানোর কারনে বাজারে উদ্বৃত্ত দেখা দেয়। তখনই দামও কমে যায়। তাতে চাষিরা অনেক সময় লোকসানের মুখে পড়েন। তাই ওই এলাকাতেও বিকল্প হিসাবে উদ্যানপালনে জোর দিতে হবে। কিন্তু এতদিন বাঁকুড়া সদর থেকে হর্টিকালচার দপ্তরের কাজকর্ম চালানো হত। সম্প্রতি দপ্তরের পৃথক মহকুমা বিভাগ খোলা হয়েছে। বিষ্ণুপুর মহকুমাশাসকের অফিসের একটি কক্ষে তা চলছে। মহকুমার মধ্যে বিষ্ণুপুর, সোনামুখী, কোতুলপুর, জয়পুর, ইন্দাস ও পাত্রসায়র এলাকার চাষিরা উদ্যান পালনের বিষয়ে যে কোনও সহযোগিতার জন্য এবার থেকে আর বাঁকুড়া সদরে যেতে হবে না। বিষ্ণুপুরেই সেই সুবিধা পাবেন।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ