নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তছরুপের টাকায় কেনা সম্পত্তি বিএনএসএসের নতুন ধারায় ‘অ্যাটাচমেন্ট’-এর জন্য হাওড়া আদালতে আবেদন জানাল সাঁকরাইল থানা। রাজ্য পুলিশ সূত্রের খবর, নতুন আইন চালু হওয়ার পর রাজ্যের কোনও থানা প্রথম এই আর্জি জানাল। তদন্ত চলাকালীন সম্পত্তি আট্যাচ করার সংস্থান নয়া আইনে রয়েছে। সেটি কাজে লাগিয়েই সম্পত্তির বেদখল রুখতে চাইছেন তদন্তকারীরা।
হাওড়া সিটি পুলিশ ও আদালত সূত্রের খবর, সাঁকরাইল থানার জঙ্গলপুর এলাকায় স্টিল প্লান্ট রয়েছে। অভিযোগ, এই কোম্পানির ২৭ কোটি টাকা তছরুপের ঘটনা ঘটে। তিনবছর ধরে এই টাকা পাচারের বিষয়টি কোম্পানির অডিট রিপোর্টে ধরা পড়েছে। আর্থিক বিষয়টি দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই কোম্পানির তিন কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। তার ভিত্তিতে কেস রুজু করে থানা। তদন্তে প্রকাশ, ওই কোম্পানি স্রেফ খাতায়কলমেই অন্য সংস্থা থেকে বিভিন্ন কাঁচামাল কিনেছে। ভুয়ো ইনভয়েস পেশ করেছে জঙ্গলপুরের ওই প্লান্টের তিন কর্মী। টাকা পাচার হয়েছে ঝাড়খণ্ড, বিহার, মহারাষ্ট্রসহ বিভিন্ন রাজ্যে। তদন্তে প্রকাশ, কাগুজে কোম্পানিগুলির অ্যাকাউন্ট তিন অভিযুক্তের দূরসম্পর্কের আত্মীয়দের। এরপর গ্রেপ্তার করা হয় বিকাশ হরি ও রীতেশ আগরওয়াল নামে দুই কর্মীকে। তাদের জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, বিভিন্ন জায়গায় নামে-বেনামে একাধিক সম্পত্তি কেনা হয়েছে। এমনকী দামি মেশিনসহ অন্য অনেক জিনিসও কিনেছে তারা। এরপরই তদন্তকারী অফিসার বিএনএসএসের ১০৭ ধারা অনুযায়ী তদন্ত চলাকালীন এই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেন।
আগের আইনে সম্পত্তি অ্যাটাচ করা যেত তদন্ত শেষ হওয়ার পর। ফলে বহু সম্পত্তিই একাধিক হাতবদল হয়ে যেত। ওই কারণে তার হদিশ পেতে তদন্তকারীদের কালঘাম ছুটত। নয়া আইনে তদন্তচলাকালীনই এই সুবিধা মেলায় রাজ্যের কোনও থানা প্রথম এই পদক্ষেপ করল। হাওড়া আদালতের সরকারি আইনজীবী তারাগতি ঘটক জানান, পুলিশের তরফে ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত একটি আবেদন আদালতে জমা পড়েছে। শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ১৯ সেপ্টম্বর। আদালতের অনুমতি নিয়েই অ্যাটাচমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।



