সংবাদদাতা, ডোমকল: পাইপ লাইন বসানো রয়েছে। জলের রিজার্ভারও রয়েছে। কিন্তু, তারপরেও ডোমকলের গরিবপুরে কোটি টাকা খরচে নির্মিত জল প্রকল্প থেকে পরিস্রুত পানীয় জল মেলে না বলে অভিযোগ। সরকারি প্রকল্প থেকে আর্সেনিকমুক্ত জল না মেলায় সমস্যায় পড়েছে এলাকার প্রায় কয়েক হাজার পরিবার। পরিস্রুত পানীয় জল না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেকেই বাজার থেকে কিনে জল পান করছেন। যাঁদের সেই সামর্থ্য নেই, তাঁরা অপরিস্রুত জলই পান করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার অভাবেই এতদিন ধরে তাঁরা পরিস্রুত পানীয় জল পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ জেলার ২৬টি ব্লকের মধ্যে একটি ছাড়া বাকি সব ব্লকেই ‘হু’-এর নির্দেশিকা স্তরের উপরে আর্সেনিক দূষণ রয়েছে। ডোমকল ব্লকেও জলে আর্সেনিকের মাত্রা নির্দিষ্ট মানের থেকে বেশিই রয়েছে। এলাকা আর্সেনিকপ্রবণ হওয়ায় ২০০৯ সালে ডোমকলের গরিবপুর এলাকার মধ্য গরিবপুর ও জিতপুরে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের তরফে দু’টি ওয়াটার রিজার্ভার তৈরি করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, আর্সেনিক প্রবণ এলাকায় বাড়ি বাড়ি পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া। ওই প্রকল্পের অধীনে গরিবপুর, মধ্য গরিবপুর, দক্ষিণ গরিবপুর, জিতপুর, চাঁদপুর, পাড়দিয়ার এলাকায় জল সংযোগ দেওয়া রয়েছে। কিন্তু, ওই সব এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছর কয়েক আগে ট্যাপগুলি থেকে জল মিললেও এখন একেবারেই জল পাওয়া যায় না।
জিতপুরের বাসিন্দা মজিবর রহমান বলেন, আমাদের এলাকা আর্সেনিকপ্রবণ। অথচ বছর কয়েক ধরে ধরে আমরা পরিস্রুত পানীয় জল পাচ্ছি না। নলকূপের জলও পানের অযোগ্য। গরিবপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান আহেদুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর কয়েক বছর জল মিললেও, এখন ট্যাপ দিয়ে জল পড়ে না। আমরা একাধিকবার রিজার্ভারের দায়িত্বে থাকা লোকজনকে জানিয়েছি। তারপরেও সমস্যার সুরাহা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পের জল না মেলায় ২০-৩০ টাকা দিয়ে ২০ লিটারের জল কিনে খেতে হচ্ছে আমাদের। দ্রুত পরিস্রুত জল দেওয়া হোক।
গরিবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুচিত্রা খাতুন বলেন, একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে পিএইচইকে জানিয়েছি। তারপরেও সমস্যার সুরাহা হয়নি। সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা বিভিন্ন এলাকায় ১৯টি সজলধারা বসিয়েছি। আমরা চাই পিএইচইর রিজার্ভারগুলি থেকেও জল সরবরাহ হোক।
পিএইচইর ইসলামপুর ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার বিশ্বদেব চৌধুরী বলেন, ওই এলাকায় জল সরবরাহের জন্য পাইপ লাইনের কাজ চলছে। সেই কারণে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমরা যত দ্রুত সম্ভব পুনরায় ওই এলাকায় জল সরবরাহের ব্যবস্থা করব।