নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠছিল অধ্যাপকের বিরুদ্ধে। প্রস্তাবে রাজি নাহলে প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হত বলে অভিযোগ। তা নিয়ে কলেজের অন্দরে চাপানউতোর চলছিল। শুক্রবার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটল।
দুই ছাত্রীর শ্লীলতাহানির বিষয় সামনে আসতেই উত্তাল হল গোবরডাঙা হিন্দু কলেজ। ক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক সন্দীপ দত্তকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। পুলিশ কলেজে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে দুই ছাত্রীর পৃথক অভিযোগের ভিত্তিতে অধ্যাপককে গ্রেপ্তার করে গোবরডাঙা থানার পুলিশ। শনিবার তাঁকে বারাসত আদালতে তোলা হবে।
গাইঘাটার চাঁদপাড়ার বাসিন্দা সন্দীপ গোবরডাঙা হিন্দু কলেজে ভূগোলের অধ্যাপক হিসাবে কর্মরত। নিজের বাড়িতে প্রাইভেট টিউশনও পড়াতেন তিনি। অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরে কলেজের একাধিক ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দিতেন ওই অধ্যাপক। রাজি না হলে প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হত বলেও অভিযোগ। সম্প্রতি দুই ছাত্রীকে একইভাবে কুপ্রস্তাব দেওয়ার পর তাঁরা আপত্তি জানালে ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এরপর অভিযুক্ত নিজের চাঁদপাড়ার বাড়িতে ডেকে নিয়ে তাঁদের শ্লীলতাহানি করেন বলেও অভিযোগ করেছেন দুই ছাত্রী। ঘটনার পর শুক্রবার কলেজে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ছাত্রছাত্রীরা। অভিযুক্ত অধ্যাপককে ঘিরে ধরে তারা বিক্ষোভ দেখান। পরে তাঁকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। খবর পেয়ে পুলিশ কলেজে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
কলেজের এক ছাত্রী মৌসুমী সাহার বক্তব্য, আমি স্যারের চাঁদপাড়ার বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে যেতাম। আচরণ কুরুচিকর ছিল। আমাদের ব্যাচের কয়েকজন মেয়েকেও কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই কারণে পরে আর ওঁর কাছে পড়তে যাইনি। এনিয়ে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সদস্য গণেশ বিশ্বাস বলেন, অধ্যাপকের বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ উঠেছিল। ফের একই ধরনের ঘটনার অভিযোগ সামনে আসায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন পড়ুয়ারা। আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। যদিও এই বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।