নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: অবশেষে বাংলাদেশি যুবক নিউটন দাসের নাম কাকদ্বীপের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করল প্রশাসন। তাঁর নাম কীভাবে ভোটার তালিকায় উঠল, দিন কয়েক আগেই সেটা নিয়ে সরজমিনে তদন্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। বুথ লেভেল অফিসার নিউটনের কাকদ্বীপের বাড়ির ঠিকানায় গিয়ে ঘুরে এসেছেন। কিন্তু তিনি সেখানে ছিলেন না। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই যুবক বাংলাদেশে রয়েছেন।
এই সংক্রান্ত যাবতীয় রিপোর্ট ও তথ্য কাকদ্বীপ মহকুমা প্রশাসনের কাছে জমা পড়তেই শুরু হয়ে গিয়েছে, তাঁকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি। নিয়মানুযায়ী, কোনও ভোটারকে বাদ দিতে গেলে ফর্ম সেভেন পূরণ করতে হয়। এক্ষেত্রে যেহেতু সংশ্লিষ্ট ভোটার তাঁর নিজস্ব ঠিকানায় নেই, তাই বিএলওর পক্ষ থেকে ওই ফর্ম পূরণ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। পরের ধাপ হিসেবে নিউটনকে চিঠি দিয়ে হেয়ারিংয়ে ডাকা হবে। তিনি না এলে তখন পরবর্তী ধাপে মহকুমা ও ব্লকস্তরে রিপোর্ট তৈরি করে জমা দেওয়া হবে নির্বাচন কমিশনে। জানা গিয়েছে, এইসব প্রক্রিয়াই এখন চলছে। কয়েকদিনের মধ্যেই সেটা শেষ হবে। এরপরই তালিকা থেকে কেটে দেওয়া হবে নিউটনের নাম।
গত বছরের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন এই নিউটন। সেই ছবি ভাইরাল হতেই প্রকাশ্যে আসে তাঁর কাকদ্বীপের ভোটার তালিকায় নাম থাকার খবরও। এরপরই শোরগোল পড়ে যায় সর্বস্তরে। কীভাবে তিনি এখানে নাম তুললেন, তা নিয়েই উঠেছিল প্রশ্ন। নিজেকে কাকদ্বীপের বাসিন্দা বলে জাহির করলেও, নিউটন যে বাংলাদেশের বাসিন্দা সেটা তাঁর দাদা খোলসা করে দিয়েছেন। এদিকে, নিউটনের বিষয়টি নিয়ে রিপোর্ট তলব করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেই অনুযায়ী জেলা প্রশাসন তদন্ত করে ওই যুবকের নাম বাদ দেওয়ার উপযুক্ত প্রমাণ পেয়েছে। এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, কাগজপত্র তৈরি করা হচ্ছে। যাবতীয় প্রক্রিয়া চলছে। শীঘ্রই নাম বাদ দেওয়া হবে। অন্যদিকে, কাকদ্বীপ জুড়ে যত বাংলাদেশি বাসিন্দা আছে, তাদের ভোটার কার্ড বাতিল সহ উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানালেন শিবশঙ্কর দাস নামে কাকদ্বীপের এক বাসিন্দা। এই মর্মে নির্বাচন কমিশনকে একটি চিঠি লিখে তিনি জানিয়েছেন, ব্লকে প্রচুর বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তাঁরা অবৈধভাবে ভোটার, আধার ও প্যান কার্ড বানিয়েছেন। এছাড়াও এখানকার সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় করছেন। তাঁদের অবিলম্বে খুঁজে বের করে ওই সব সরকারি নথি বাতিল করার পদক্ষেপ করতে হবে। ফাইল চিত্র