প্রয়াগরাজ: একটি নয়। বুধবার পরপর দু’টি পদপিষ্টের ঘটনার সাক্ষী ছিল প্রয়াগরাজের পূর্ণকুম্ভ। ত্রিবেণী সঙ্গমের নাকের ডগায় প্রথম পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার রাত দেড়টা নাগাদ। কিন্তু তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আরও একটি পদপিষ্টের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। সেটি গঙ্গার তীরে ঝুসি ঘাটে। প্রথম পদপিষ্ট হওয়ার স্থান থেকে তার দূরত্ব মেরেকেটে দু’কিলোমিটার হবে। সেখানেও বহু পুণ্যার্থী ধাক্কাধাক্কিতে পড়ে যান। পুণ্যলাভের আশায় তাঁদের মাড়িয়ে চলে যান বহু মানুষ। ঝুসিতেও একাধিক পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। কিন্তু প্রথমটির মতো দ্বিতীয় ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসেনি। এক্ষেত্রেও কি মৃত্যুর ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে যোগী প্রশাসন? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে নানা মহলে।
Advertisement
একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার ভোর ৫টা ৫৫ মিনিট নাগাদ ঝুসি ঘাটেও শাহি স্নানের জন্য অসংখ্য মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। ধাক্কাধাক্কির জেরে অনেকে পড়ে গিয়ে পদপিষ্ট হন। পরে তাঁদের জামাকাপড়, জলের বোতল ব্যাগপত্র ও জুতোর স্তূপ ট্রাক্টরের মাধ্যমে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী নেহা ওঝা বলেন, ঝুসিতে পদপিষ্ট হয়ে অন্তত দু’জন মারা গিয়েছেন। অথচ এনিয়ে কারও কোনও মাথাব্যথা নেই। ঘটনার চারঘণ্টা পর একজন মহিলা পুলিসকর্মী আসেন। এই জায়গায় কাউকে ভিডিও তুলতে দেওয়া হয়নি। পরে দুপুর দেড়টা নাগাদ দেহগুলি সরিয়ে নিয়ে যায় পুলিস। অপর প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, পায়ের চাপে অন্তত ২৪ জন জখম হন। আহতরা সাহায্যের জন্য আর্জি জানাচ্ছিলেন। কিন্তু কেউই এগিয়ে আসেনি। বাহাদুর সিং নামে আরও প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, জায়গা এতটাই জনবহুল ছিল, অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে পারেনি। তাহলে পূর্ণকুম্ভের ভিড়ের মতোই কি সবকিছু ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে? এব্যাপারে নিরুত্তর যোগী প্রশাসন।



