নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। আজ যা কল্পনা করা দুষ্কর, কাল তাইই যেন সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত হয়। কোচবিহারের রাজনীতিতেও ঠিক তেমন ঘটনা ঘটল! রাজনীতির ময়দানে কার্যত মুখ দেখাদেখি বন্ধ থাকা ‘কাকা-ভাইপো’ ফের কাছাকাছি এলেন। কোচবিহারের রাজনীতিতে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ও পার্থপ্রতিম রায়ের ‘কাকা-ভাইপো’র লড়াই দীর্ঘদিন ধরেই সুবিদিত। এই দুই নেতার ঘনিষ্ঠতা যেমন একসময় আলোচিত ছিল, তেমনই এঁদের দূরত্ব নিয়েও ব্যাপক জলঘোলা হয়েছে। একসময়ের চিড় ধরা সেই সম্পর্ক ধীরে ধীরে ফাটলে পরিণত হয়েছিল। পুরনো সব দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ফের তা জোড়া লাগল। কাছাকাছি এলেন ‘কাকা-ভাইপো’। সম্প্রতি পার্থবাবুর পিতৃবিয়োগ হয়েছে। সেই সময় রবিবাবু তাঁর গ্রামের বাড়িতে যান। বরফ যেন তখন থেকেই গলতে শুরু করেছিল। দীর্ঘ ২২ বছর জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। সেই সময়েই পার্থপ্রতিম রায়ের উত্থান। সাংসদ হওয়া। কিন্তু পরবর্তী সময়ে রবিবাবুর সঙ্গে শিষ্য পার্থপ্রতিম রায়ের সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছয়। পরবর্তীতে পার্থবাবু দলের জেলা সভাপতি হন। তখনও একই পরিস্থিতি চলে। বর্তমানে তাঁদের কেউই দলের জেলা সভাপতি নন। যে পার্থবাবু একসময় অনেকগুলি সরকারি পদে ছিলেন,তিনি এখন শুধুই উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের চেয়ারম্যান। আর একদা উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এখন কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান। অন্যদিকে, ধীরে ধীরে ক্ষমতা বৃদ্ধি করে জেলা তৃণমূল সভাপতির দায়িত্ব এখন অভিজিৎ দে ভৌমিকের কাঁধে। বর্ষীয়ান গুরু রবি ও শিষ্য অপেক্ষাকৃত নবীন প্রজন্মের পার্থ দু’জনেরই এখন দলে অনেকটাই কোণঠাসা।



