সংবাদদাতা, লালবাগ: ভৈরবের চরে নজর পড়েছে জমি মাফিয়াদের। শুরু হয়েছে দখলদারি। আবার প্রোমোটারদের হস্তান্তরের ফলে বেআইনিভাবে গজিয়ে উঠছে বসত ভিটে। আর এতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন পরিবেশপ্রেমীরা। এই পরিস্থিতিতে মজে যাওয়া ভৈরব বাঁচাতে সংস্কারের উদ্যোগ নিল রাজ্য সেচদপ্তর। সম্প্রতি সেচদপ্তরের আধিকারিক, ভগবানগোলা ব্লক প্রশাসন এবং ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের প্রতিনিধিরা ভগবানগোলা এলাকায় মজে যাওয়া ভৈরব ঘুরে দেখেন। সেচদপ্তরের জিয়াগঞ্জ সেকশনের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার সুপ্রিয় দাস বলেন, ভৈরবের শাখা নদ পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এলাকার জমি চিহ্নিত করা হবে। তারপর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে ইতিমধ্যেই ভৈরবের হনুমন্তনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এবং আখেরিগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা নিয়ে একটি পরিকল্পনা করা হয়েছে।
Advertisement
পদ্মা নদীর শাখা হিসেবে পরিচিত ভৈরব নদ। কয়েক দশক আগে ভগবানগোলা থানা এলাকা থেকে পদ্মা বাংলাদেশের দিকে সরে যাওয়ায় নাব্যতা হারাতে থাকে ভৈরব। ফলে ভৈরব অববাহিকা অঞ্চলগুলি ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক, সামাজিক দিক থেকে কৌলিন্য হারাতে থাকে। ভৈরবের একটি শাখা বয়ে গিয়েছে হাবাসপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রুহিমারি এলাকা থেকে রানিতলা হয়ে জলঙ্গির দিকে। বর্তমানে ওই শাখার চিহ্ন প্রায় নেই, কোথাও শীর্ণ চেহারা জানান দেয় তার অস্তিত্বের। অপর শাখাটি মহম্মদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নহরপাড়া হয়ে পলাশবাড়ি ঘাট দিয়ে মগড়াদহ বিলের দিকে বয়ে গিয়েছে। পরবর্তীতে আমডহরা হয়ে ইসলামপুর পেরিয়ে হরিহরপাড়া দিয়ে গিয়ে মিশেছে জলঙ্গিতে। এক দশক আগেও বর্যাকালে এই শাখাটি পদ্মার জলে ফুলে ফেঁপে উঠত। এখন দখল হচ্ছে নদের চর। জমি মাফিয়াদের মদতে গড়ে উঠছে বাড়ি, ঘর।
গবেষকদের দাবি, ভৈরব নদকে ঘিরে প্রাচীন বন্দর গড়ে উঠেছিল পলাশবাটিতে। ওই বন্দরের ভগ্নাবশেষ দেখে গবেষকরা অনুমান করেন, চাঁদ সদাগর তাঁর বাণিজ্যতরির নোঙর করেছিলেন এই বন্দরে। আবার পলাশীর যুদ্ধ পরাজিত হয়ে নবাব সিরাজদৌলা সপরিবারে বিহার রওনা দিয়েছিলেন এই জল পথেই। কিন্তু, বর্তমানে ওই নদ কোথাও কোথাও পুকুরের আকার নিয়ে এখনও পরিচয় বহন করে মাত্র। অথচ কয়েক বছর আগেও ভৈরবের জলে সবুজ বিপ্লব ঘটতে দেখেছে মানুষ। এই পরিস্থিতিতে ওই নদকে রক্ষা করতে উদ্যোগী হয়েছেন জেলা পরিষদের সদস্য আবু সায়েম রিপন। ভগবানগোলায় ভৈরবের ১০কিমি এলাকা সংস্কার করে স্থানীয় চাষিদের সেচের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। তাঁর চেষ্টাতেই সেচদপ্তর ভৈরব পরিদর্শন শেষে স্থানীয় ভূমিদপ্তরকে নদ এলাকার জমি চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়ে যান।
জেলা পরিষদ সদস্য বলেন, ভৈরবের সংস্কার হলে এলাকায় ‘জল ধরো, জল ভরো’ প্রকল্পের সার্থক রূপ দেওয়া যাবে। এলাকায় কৃষি কাজের পাশাপাশি মাছ চাষ এবং গোরু ছাগল পালনের পরিবেশ গড়ে উঠবে। স্বাভাবিকভাবে ভৈরবকে ঘিরে এলাকার অর্থনৈতিক পরিবর্তন ঘটবে। অবৈধ দখলদারিও রোখা যাবে।
গবেষকদের দাবি, ভৈরব নদকে ঘিরে প্রাচীন বন্দর গড়ে উঠেছিল পলাশবাটিতে। ওই বন্দরের ভগ্নাবশেষ দেখে গবেষকরা অনুমান করেন, চাঁদ সদাগর তাঁর বাণিজ্যতরির নোঙর করেছিলেন এই বন্দরে। আবার পলাশীর যুদ্ধ পরাজিত হয়ে নবাব সিরাজদৌলা সপরিবারে বিহার রওনা দিয়েছিলেন এই জল পথেই। কিন্তু, বর্তমানে ওই নদ কোথাও কোথাও পুকুরের আকার নিয়ে এখনও পরিচয় বহন করে মাত্র। অথচ কয়েক বছর আগেও ভৈরবের জলে সবুজ বিপ্লব ঘটতে দেখেছে মানুষ। এই পরিস্থিতিতে ওই নদকে রক্ষা করতে উদ্যোগী হয়েছেন জেলা পরিষদের সদস্য আবু সায়েম রিপন। ভগবানগোলায় ভৈরবের ১০কিমি এলাকা সংস্কার করে স্থানীয় চাষিদের সেচের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। তাঁর চেষ্টাতেই সেচদপ্তর ভৈরব পরিদর্শন শেষে স্থানীয় ভূমিদপ্তরকে নদ এলাকার জমি চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়ে যান।
জেলা পরিষদ সদস্য বলেন, ভৈরবের সংস্কার হলে এলাকায় ‘জল ধরো, জল ভরো’ প্রকল্পের সার্থক রূপ দেওয়া যাবে। এলাকায় কৃষি কাজের পাশাপাশি মাছ চাষ এবং গোরু ছাগল পালনের পরিবেশ গড়ে উঠবে। স্বাভাবিকভাবে ভৈরবকে ঘিরে এলাকার অর্থনৈতিক পরিবর্তন ঘটবে। অবৈধ দখলদারিও রোখা যাবে।



