সংবাদদাতা, বহরমপুর: কিশোরী প্রেমিকার ডাকে মুম্বই থেকে এসে অস্বাভাবিক মৃত্যু হল এক কিশোরের। মঙ্গলবার গভীর রাতে শিয়ালদহ-লালগোলা শাখার জিয়াগঞ্জ স্টেশন লাগোয়া এলাকা থেকে তার দেহ উদ্ধার করে বহরমপুর জিআরপি। সঙ্গে থাকা আধার কার্ড দেখে কিশোরের পরিচয় জানতে পারে পুলিস। নাম সাবির শেখ (১৭)। রাত আড়ইটে নাগাদ তার পরিবারের লোকদের খবর পাঠানো হয়। তার আগে কিশোরের সঙ্গে বার কয়েক ফোনে কথা হয়। তার সঙ্গে দেখা করারও চেষ্টা করেন। কিন্তু ব্যর্থ হন। পরিবারের অভিযোগ, ট্রেন দুর্ঘটনায় সাবিরের মৃত্যু হয়নি। তাকে খুন করা হয়েছে। অভিযোগের আঙুল প্রেমিকার পরিবারের দিকে। তাঁরা প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়ে খুনের অভিযোগ তুলেছেন।। মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে রেল পুলিস। সাবিরের বাড়ি মুর্শিদাবাদ থানার হুমায়ুন মঞ্জিল এলাকায়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মাস দু’য়েক আগে সিটি গোল্ডের কাজ শিখতে গ্রামের বন্ধুদের সঙ্গে মুম্বই পাড়ি দিয়েছিল সাবির। সেখান থেকেই সোস্যাল মিডিয়ায় এক কিশোরীর সঙ্গে যোগাযোগ হয়। সেটা প্রেম পর্যন্ত গড়ায়। ওই কিশোরীর বাড়ি ভগবানগোলা রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায়। প্রমিকাকে নিয়েই মুম্বই যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল সাবিরের। মঙ্গলবার রাত ৮টা নাগাদ মুম্বই থেকে সরাসরি ভগবানগোলা স্টেশনে এসে নামে সে। সাবিরের এক বন্ধুর কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারে তার পরিবারের লোকেরা। কিন্তু, তার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও সাবির ফোন ধরেনি। রাত ৯টা নাগাদ পরিবারের লোকজন ভগবানগোলা স্টেশনে গিয়ে তন্নতন্ন করে খুঁজেও তার হদিশ পাননি।
Advertisement
সাবিরের আত্মীয় রহমত শেখ বলেন, অনেক চেষ্টার পর ওর বন্ধুর ফোন থেকে ফোন করি। তখন ও ফোন ধরে। আমরা ওকে বুঝিয়ে আমাদের সঙ্গে দেখা করতে বলি। আমাদের জানায়, জিগায়ঞ্জ স্টেশনে রয়েছি। তোমাদের সঙ্গে লালবাগ স্টেশনে দেখা করে বাড়ি যাব। জিয়াগঞ্জ স্টেশনে এসেও কোনও ওর দেখা পাইনি। তারপর থেকে আর ফোনে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। আমরা লালবাগ স্টেশনে এসে অপেক্ষা করি। এর মধ্যে ওই কিশোরীর পরিবার থেকে মৃত কিশোরের বাড়িতে ফোন আসে। সাবিরের ঠাকুমা নূরজাহান বিবি বলেন, আমাকে ফোনে বলা হয় আপনাদের ছেলে আমাদের বাড়ির পাশে ঘোরাঘুরি করছে। বাড়ির ছেলেরা জানতে পারলে ক্ষতি হতে পারে। ওকে ফিরিয়ে নিয়ে যান। সাবিরকে বাড়ি ফেরাতে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত লালবাগ স্টেশনে অপেক্ষা করেছিলেন পরিবারের লোকেরা। তার পর বাড়ি ফিরে যান। রাত আড়াইটে নাগাদ বহরমপুর জিআরপি থানা থেকে বাড়িতে ফোন করে মৃত্যুর খবর জানানো হয়। রহমত শেখ বলেন, মাথার পিছনের দিকে মাত্র একটা আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমাদের অনুমান সাবিরকে খুন করে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। আমরা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।



