Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুরুলিয়া দিয়ে চলাচলকারী ৫টি ট্রেন দীর্ঘদিন বন্ধ, ক্ষোভ

পুরুলিয়া দিয়ে চলাচলকারী ৫টি ট্রেন দীর্ঘদিন বন্ধ, ক্ষোভ
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: ট্রেন পরিষেবায় উন্নয়নের বার্তা দিতে বর্তমানে মোদি সরকার ‘বন্দে ভারত’ ট্রেনের প্রচারে ব্যস্ত রয়েছে। অথচ কোভিডকালের পরেই দক্ষিণ-পূর্ব রেলের তরফে যাত্রী হচ্ছে না জানিয়ে পুরুলিয়া জেলা দিয়ে চলাচলকারী চারটি এক্সপ্রেস এবং একটি মেমু প্যাসেঞ্জার ট্রেনের পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে। জেলার মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জনসংখ্যার চাপ বাড়ছে অথচ জেলায় নতুন ট্রেন দেওয়া হয়নি। উপরন্তু যে সব ট্রেন চালু ছিল সেইগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
Advertisement
দক্ষিণ-পূর্ব রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, কোভিডের পর ধীরে ধীরে রেল পরিষেবা শুরু হয়। সেই সময় রেলের তরফ থেকে ঘোষণা করা হয় যাত্রী না হওয়ার জন্য ট্রেনের লাভ হচ্ছে না। তাই আদ্রা ডিভিশনের উপর চলাচলকারী লালমাটি এক্সপ্রেস(পুরুলিয়া-হাওড়া), বিরসা মুণ্ডা এক্সপ্রেস(পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম), পুরুলিয়া-খড়্গপুর ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, টাটা-রাঁচি ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস এবং আসানসোল-বোকারো মেমু প্যাসেঞ্জার ট্রেনগুলির পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। জেলার মানুষের জন্য ট্রেনগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এখনও ট্রেনগুলির পরিষেবা চালু করা হয়নি।
আদ্রা ডিভিশনের সিনিয়ার ডিসিএম বিকাশ কুমার বলেন, বন্ধ ট্রেনগুলি কবে থেকে চালু হবে সেই বিষয়ে কোনও নির্দেশিকা আসেনি। তবে ট্রেনগুলির বিষয়ে উচ্চস্তরের আধিকারিকদের জানানো হয়েছে।
লালমাটি এক্সপ্রেসটি হাওড়া, খড়্গপুর, ঝাড়গ্রাম, ঘাটশিলা, টাটা, বরাভূম হয়ে পুরুলিয়া পর্যন্ত চলত। মোট ৭টি স্টেশনে স্টপেজ দিত। অন্যদিকে বিরসা মুণ্ডা এক্সপ্রেসটি পুরুলিয়া হয়ে বরাভূম, চাণ্ডিল, টাটা, ঘাটশিলা, ঝাড়গ্রাম পর্যন্ত চলাচল করত। পাশাপাশি পুরুলিয়া-খড়গপুর ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসটি খড়্গপুর, শালবনী, বিষ্ণুপুর, বাঁকুড়া, আদ্রা হয়ে পুরুলিয়া পর্যন্ত মোট ১২টি স্টপেজ দিত। একইভাবে টাটা-রাঁচি ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসটি রাঁচি, মুরি, কোটশিলা, পুরুলিয়া, বরাভূম, চাণ্ডিল হয়ে টাটা যেত। ট্রেনটি নয়টি স্টেশনে দাঁড়াত। এছাড়া, আসানসোল ও পুরুলিয়া জেলার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল আসানসোল-বোকারো দৈনিক মেমু প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি।
ট্রেনগুলির পরিষেবা বন্ধ করার বিষয়ে রেলের তরফ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, লাভজনক ও যাত্রী হয় এমন ট্রেনের পরিষেবার মান ও গতি বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে কিছু প্রযুক্তিগত পরীক্ষা, পরিকল্পনা রয়েছে। তাই অলাভজনক ট্রেনগুলির পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
ট্রেনযাত্রী বিবেক দাস, জিতেন মণ্ডল বলেন, আদ্রা ডিভিশনে পরিষেবা কতটা উন্নত হয়েছে তা নিত্যযাত্রীরা ভালোই জানেন। সপ্তাহব্যাপী উন্নয়নমূলক কাজের নামে গতি বাড়ার কোনও খবর নেই। শুধু হয়রানির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা।
পুরুলিয়া জেলা পরিষদের কো-মেন্টর জয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পুরুলিয়া জেলার মানুষ বিজেপি সাংসদকে জিতিয়েছেন। অথচ সেই সাংসদকে জেলায় দেখতেই পাওয়া যায় না। তিনি জেলা ছেড়ে রাজ্যের দলীয় রাজনৈতিক মিটিং, মিছিলে ব্যস্ত থাকেন। দু’বার সাংসদ হয়েও বন্ধ থাকা ট্রেনগুলির পরিষেবা চালু করতে পারেনি। আমরা আন্দোলনের পথে রয়েছি।
বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে এব্যাপারে বিজেপির রাজ্য কমিটির সভাপতি তথা প্রাক্তন পুরুলিয়া জেলার সাংগঠনিক সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী বলেন, আদ্রা ডিভিশনে অনেকগুলি নতুন ট্রেন চালু হয়েছে। যেগুলি বন্ধ আছে সেগুলি যাতে দ্রুত চালু করা যায় তার জন্য আমরা দলীয়ভাবে রেলকে জানাব।
সম্পর্কিত সংবাদ