Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুরুলিয়ায় যুবক খুনে ত্রিকোণ প্রেম

পুরুলিয়ায় যুবক খুনে ত্রিকোণ প্রেম
  • ১ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: পুরুলিয়ায় কালভার্টের নীচ থেকে যুবকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে। ত্রিকোণ প্রেমের জেরেই পুরুলিয়া শহরের যুবক সুরেশ সূত্রধরকে (২২) খুন করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছে পুলিস। ওই ঘটনায় পুলিস মৃতের প্রেমিকা সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের নাম চুমকি পান্ডে, কুমকুম পান্ডে ও ইমরান আনসারী। তাঁদের শুক্রবার পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১০ দিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিস জানতে পেরেছে, সুরেশের সঙ্গে কুমকুমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু, মাঝে ঢুকে পড়েন ইমরান। কুমকুম সুরেশকে ছেড়ে ইমরানের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। সুরেশ সেটা মেনে নিতে পারেননি। তিনি কুমকুমকে পেতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরেই সুরেশকে পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে বলে দাবি পুলিসের।
Advertisement
প্রসঙ্গত, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোরে গোশালা রেলগেটের কাছে সুরেশের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তাঁর বাড়ি পুরুলিয়া শহরের নডিহার নেতাজি স্কুলের কাছে। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, সুরেশকে খুন করা হয়েছে। পুলিস ঘটনার তদন্তে নেমে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। ধৃত চুমকি ও কুমকুম দুই বোন। তাদের বাড়ি পুরুলিয়ার চুনাভাটিতে। পুলিস সূত্রের খবর, তাদের বাড়িতে প্রায়ই ছেলেদের আনাগোনা লেগে থাকত। সেই যাতায়াতের সূত্রেই কুমকুমের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন সুরেশ। কুমকুম বিবাহিতা হলেও স্বামীর সঙ্গে তিনি থাকতেন না। 
পরিবার সূত্রের খবর, কুমকুমের জন্য বহু টাকা খরচ করেন সুরেশ। তাঁদের দু’টো টোটো ছিল। কুমকুমের পিছনে খরচ করতে গিয়ে একটি টোটো বিক্রি করে দিতে হয়। তবে কয়েকমাস আগেই কুমকুমের জীবনে আসেন বাগড়া এলাকার বাসিন্দা ইমরান। তারপর থেকেই সুরেশের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতে থাকে কুমকুম। সুরেশকে তিনি অবহেলা করতে থাকেন। বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি সুরেশ। তিনি কুমকুমকে পাওয়ার জন্য আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। সুরেশের আচরণে বিরক্ত হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে পুরুলিয়া মফস্‌সল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন কুমকুম। তদন্তকারীরা মনে করছেন, কুমকুমকে পাওয়ার জন্য সুরেশ বেপরোয়া হওয়ার কারণেই তাঁকে খুন হতে হয়েছে। তবে কীভাবে সুরেশকে খুন করা হয়েছিল, কীভাবে তাঁর দেহ ওই এলাকায় এল, তা জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছে পুলিস।
পুলিস জানতে পেরেছে, কুমকুম ও সুরেশ ২৪ ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে ছিলেন। দুপুরে দু’জনে মদ্যপানও করে যে যার বাড়ি চলে যায়। সন্ধ্যায় কুমকুমের কাছে যখন ইমরান আসেন, তখন তিনি জানতে পারেন বিষয়টি। সেই আক্রোশ থেকেই খুন কি না, তা পুলিস খতিয়ে দেখছে।
ওই কালভার্টের কাছেই একটি লেবার ক্যাম্প রয়েছে। সেখানকার শ্রমিকরা ২৪ তারিখ রাতে দুই মহিলা ও এক যুবককে সেখানে দেখেন। রাত দেড়টা নাগাদ ‘বাঁচাও বাঁচাও’ চিৎকার শুনে শ্রমিকরা থানায় খবর দেন। পরবর্তীতে পুলিস এসে দেহ উদ্ধার করে। তবে, এই ঘটনার পর কুমকুমের স্বামী, তাঁর দাদা ও পরিবারের অনেকেই পলাতক। তাদের খোঁজে পুলিস তল্লাশি চালাচ্ছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ