Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুরুলিয়ায় ট্যাবের টাকা ঢোকেনি ৬৮৩ পড়ুয়ার অ্যাকাউন্টে, তদন্ত

পুরুলিয়ায় ট্যাবের টাকা ঢোকেনি ৬৮৩ পড়ুয়ার অ্যাকাউন্টে, তদন্ত
  • ৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: এখনও ট্যাবের টাকা ঢোকেনি পুরুলিয়া জেলার প্রায় ৬৮৩ জন পড়ুয়ার অ্যাকাউন্টে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের অন্দরে ব্যাপক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। কেন টাকা অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি? ওই টাকা কী অন্য কোনও অ্যাকাউন্টে চলে গেল? ইতিমধ্যেই এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। 
Advertisement
সম্প্রতি পূর্ব মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান সহ একাধিক জেলায় ট্যাব কেলেঙ্কারির ঘটনা সামনে এসেছে। পড়ুয়াদের ট্যাবের টাকা ঢুকে গিয়েছে অন্য অ্যাকাউন্টে। সামনে এসেছে পোর্টাল হ্যাকের বিষয়টিও। সেই ঘটনায় এমনিতেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে শিক্ষা মহলে। ঘটনায় ক্ষুব্ধ খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে, পুরুলিয়া জেলাতেও এধরনের কোনও ঘটেছে কি না, তা নিয়ে তদন্তও শুরু করেছে শিক্ষাদপ্তর। ইতিমধ্যেই রাজ্যের তরফে স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের সমস্ত পড়ুয়ার অ্যাকাউন্ট পুনরায় ভেরিফাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকারের ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্পে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা এককালীন ১০ হাজার টাকা পায় ট্যাব কেনার জন্য। পুরুলিয়া জেলার মোট ২৬৩টি স্কুলের একাদশ শ্রেণির ৩০হাজার ৪৭৪জন ও দ্বাদশ শ্রেণির ২০হাজার ২৪৩জন পড়ুয়া মিলিয়ে ৫০হাজার ৭১৭জন পড়ুয়ার এই টাকা পাওয়ার কথা। কিন্তু, এখনও ৬৮৩জন পড়ুয়ার অ্যাকাউন্টে সেই টাকা ঢোকেনি। বিষয়টিতে অবশ্য খুব বেশি গুরুত্ব নিতে নারাজ জেলা স্কুল পরিদর্শক(মাধ্যমিক) মৌসুমি বসাক। তিনি বলেন, ‘ওটা কোনও ব্যাপার না। ওগুলো ফেইলড ট্রানজাকশন। পড়ুয়াদের কেওয়াইসি আপডেট করা না থাকলে কিংবা ১৮বছরের কম বয়সি পড়ুয়াদের অ্যাকাউন্টে ৪০হাজার টাকা থাকলে ট্যাবের টাকা ঢুকবে না। মূলত সেই কারণেই ট্যাবের টাকা ঢোকেনি।’
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক আরও বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় স্কুলের তরফে পোর্টালে পড়ুয়াদের অ্যাকাউন্ট নম্বর এন্ট্রি করার সময় ভুল হয়ে থাকে। হয়তো শেষ দু’টো ডিজিট ভুল এন্ট্রি করা হয়ে গেল। এরকমও কিছু ঘটনা প্রতি বছরই ঘটে। তখন আমরা ব্যাঙ্কে চিঠি করি। ব্যাঙ্কের তরফে ফের সেই টাকা প্রাপকের অ্যাকাউন্টে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।’ তবে পূর্ব মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমানের ঘটনার কথা সামনে আসতেই সমস্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের শনিবারের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক। তিনি বলেন, ‘পড়ুয়ারা কী কাগজপত্র দিয়েছে, স্কুলের তরফে কী এন্ট্রি করা হয়েছিল, সেগুলি খতিয়ে দেখে একটা রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।’ তবে, সাইবার প্রতারণা হয়েছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 
সম্পর্কিত সংবাদ