Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুরুলিয়া শহরে দুধবিক্রেতা খুন, অভিযুক্তের বাড়ি ভাঙচুর

পুরুলিয়া শহরে দুধবিক্রেতা খুন, অভিযুক্তের বাড়ি ভাঙচুর
  • ১৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: পুরুলিয়া শহরের বাসিন্দা এক দুধ বিক্রেতাকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম রাহুল যাদব(২৫)। তাঁর বাড়ি পুরুলিয়া শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়। তাঁকে খুন করে মৃতদেহ টেনে হিঁচড়ে বাইপাসের ধারের নালায় ফেলা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার জেরে এদিন মৃতের আত্মীয় ও প্রতিবেশীরা অভিযুক্তের বাড়িতে পাথর ছুঁড়ে ভাঙচুর চালায়। এমনকী অভিযুক্তের বাড়ির ভাড়াটিয়ার গাড়িও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। খুনের ঘটনায় এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে টামনা থানার পুলিস। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। 
Advertisement
পুরুলিয়ার পুলিস সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়েই বলেন, এদিন সকাল ৯টা নাগাদ এক দুধ বিক্রেতার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তার এক ঘণ্টার মধ্যেই মুল সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়। মৃতদেহ দেখে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে খুন করে মৃতদেহ ফেলা হয়েছে। মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হওয়ার পর আরও বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে। সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গিয়েছে। 
প্রসঙ্গত, রাহুল সাইকেল নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় দুধ বিক্রি করতে যেতেন। শনিবার সন্ধ্যাতেও তিনি দুধ বিক্রি করতে বাড়ি থেকে বের হন। তারপর আর ফিরে আসেননি। রাত ৯টার কাছাকাছি সময় থেকে তাঁর মোবাইল বন্ধ ছিল। রাতে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও রাহুলের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। রবিবার সকালে শহর লাগোয়া নির্মিয়মাণ বাইপাসের ধারে একটি মাটির নালাতেই একজনকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দুধের ক্যান সহ সাইকেলটিও তাঁর উপরেই পড়ে ছিল। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা খোঁজ পেয়েই সেখানে ছুটে আসেন। তাঁরা এসে দেহ রাহুলের বলে চিহ্নিত করেন। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মৌসুমী ঘোষও ঘটনাস্থলে যান। আত্মীয় পরিজনরা অভিযোগ করতে থাকেন, বাইপাসের কাছে কালীপুর এলাকার এক দম্পতি রাহুলকে খুন করেছে। ওই বাড়িতে চড়াও হয়ে পাথর ছুড়তে শুরু করে উত্তেজিত জনতা। অভিযুক্তের বাড়ির সামনে রাখা ভাড়াটিয়ার একটি গাড়িও ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ। 
মৃতের আত্মীয় জিতেন্দ্র যাদব বলেন, বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় একটি সাদা দোতলা বাড়িতে দুধ দিতে যেত রাহুল। কিছুদিন আগেই ওই বাড়ির মুরগি চুরি হয়। সেই সময় রাহুলের নামে চুরির মিথ্যা অভিযোগ তোলে বাড়ির মালিক। ওরাই রাহুলকে বাড়িতে খুন করে টেনে হিঁচড়ে মৃতদেহ নালায় ফেলে দিয়েছে। বাড়ির ভিতরে ওকে খুন করা হয়েছে। বাড়ির বাইরে রক্তের দাগ ছিল। টেনে আনার দাগ মৃতদেহ উদ্ধারের জায়গা পর্যন্ত ছিল। আর কোনও বিষয়ে শত্রুতা ছিল না। 
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদেহে একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে শুধুমাত্র মুরগি চুরির মতো সামান্য অভিযোগে এভাবে খুন  করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে পারছেন না পুলিসকর্তারা। খুনের ঘটনায় এক মহিলার নামও এসেছে তদন্তকারীদের কাছে। ওই মহিলার যোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিস। এদিন মৃতদেহ উদ্ধারের পর থেকেই অভিযুক্তের বাড়ির সামনে পুলিস মোতায়েন করা হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ