সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: অসময়ে বিভিন্ন সব্জি চাষে পুরুলিয়াতে ‘শেড নেট হাউস’ বা ‘ছায়া জাল ঘর’ জনপ্রিয় করতে চাইছে উদ্যানপালন দপ্তর। দুয়ারে সরকারের অষ্টম দফাতে এই প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরই জেলাজুড়ে ব্যাপক সাড়া মিলেছে বলে দাবি জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের। অসময়ে সব্জি চাষের পাশাপাশি ওই ছায়া জাল ঘরের মধ্যে বিভিন্ন সব্জির চারা তৈরি করে চাষিরা লাভবান হবেন বলেও দাবি দপ্তরের। যদিও দপ্তরের দাবির সঙ্গে বাস্তবের ফারাক অনেকখানি। উপযুক্ত প্রশিক্ষণের অভাবে অনেক চাষি ওই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার পরেও শেড নেট হাউসে ভালো সব্জি চাষ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ।
Advertisement
জেলা উদ্যানপালন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুলিয়া জেলায় চলতি বছরে দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রায় ২৪১ জনকে শেড নেট হাউস তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত বছরের তুলনায় যা কয়েক গুণ বেশি। জানা গিয়েছে গত বছর মাত্র ২০টি শেড নেট হাউস তৈরি করা হয়েছিল। দপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে ৬১ জনের শেড নেট হাউস তৈরি হয়েছে। তাঁরা প্রায় ৩৬ হাজার টাকা করে ভর্তুকিও পেয়ে গিয়েছেন। বাকিগুলিতে তৈরি সম্পূর্ণ হলে সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকি দেওয়া হবে বলে দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। এ বিষয়ে পুরুলিয়া জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর কৃষ্ণেন্দু নন্দন বলেন, দুয়ারে সরকারের উদ্যানপালন দপ্তরের এই প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরই পুরুলিয়া জেলা জুড়ে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গিয়েছে। নির্দিষ্ট মাপের অ্যাগ্রো শেড নেট দিয়ে এই শেড নেট হাউস তৈরি করা হয়। এক্ষেত্রে সবচেয়ে সুবিধা হয় অসময়ে সব্জি চাষের ক্ষেত্রে এবং চারা উৎপাদনে। পুরুলিয়া জেলায় বিভিন্ন জায়গায় সব্জি উৎপাদনের মাত্রা অনেক বেশি হলেও একই সঙ্গে বেশি পরিমাণ সব্জি উৎপাদিত হয় বলে চাষিরা দাম পান না। তাই এই ছায়া জাল ঘরে নিয়ন্ত্রিত পরিমাণ সূর্যের আলো ও তাপমাত্রা ঢোকার ফলে অসময়ের বিভিন্ন রকম সব্জি ও চারা তৈরি করা সম্ভব হয়। ওই সব্জি বাজারে ভালো দামে বিক্রি করতে সক্ষম হন চাষিরা। বেশ কিছু জায়গাতে সাফল্য এসেছে বলে দাবি দপ্তরের আধিকারিকের।
যদিও নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণের অভাবে ওই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার পরও সমস্যায় পড়েছেন চাষিরা। ঢালাও করে প্রকল্পের প্রচার করা হলেও বাস্তবে প্রকল্পে সুবিধা উপভোগ করতে পারছেন না চাষিরা। বাঘমুন্ডি সুইসার নোয়াডি এলাকার সব্জি চাষি মমতা কুইরি এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। তিনি বলেন, আধিকারিকরা বলেছিলেন এই শেড নেটের ভেতরে ভালো সব্জি চাষ হবে। ভালো হবে কিনা তার পরীক্ষা চলছে। তিনি আরও বলেন,পুরুলিয়াতে প্রচণ্ড গরম পড়ে। গরমের মধ্যে তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করবে এই নেট। সে সময়ে ভালো হওয়ার একটা সম্ভাবনা আছে। তবে বর্ষার সময় এই শেড নেটের মধ্যে সব্জি চাষ করে সমস্যায় পড়েছি। চারাগুলি ভালো হয়েছিল। কিন্তু প্রবল বৃষ্টিতে সেই চারার বৃদ্ধি ভালো হল না। শীতের সময় ফের ফুলকপি লাগিয়েছি। পরীক্ষামূলক অবস্থাতেই রয়েছে। কিছুদিন পরে বুঝতে পারব বাইরে ফাঁকা জমিতে ভালো হতো, নাকি এই শেড নেট হাউসের ভেতরে। তবে চারা উৎপাদন ভালো হচ্ছে।
যদিও নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণের অভাবে ওই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার পরও সমস্যায় পড়েছেন চাষিরা। ঢালাও করে প্রকল্পের প্রচার করা হলেও বাস্তবে প্রকল্পে সুবিধা উপভোগ করতে পারছেন না চাষিরা। বাঘমুন্ডি সুইসার নোয়াডি এলাকার সব্জি চাষি মমতা কুইরি এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। তিনি বলেন, আধিকারিকরা বলেছিলেন এই শেড নেটের ভেতরে ভালো সব্জি চাষ হবে। ভালো হবে কিনা তার পরীক্ষা চলছে। তিনি আরও বলেন,পুরুলিয়াতে প্রচণ্ড গরম পড়ে। গরমের মধ্যে তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করবে এই নেট। সে সময়ে ভালো হওয়ার একটা সম্ভাবনা আছে। তবে বর্ষার সময় এই শেড নেটের মধ্যে সব্জি চাষ করে সমস্যায় পড়েছি। চারাগুলি ভালো হয়েছিল। কিন্তু প্রবল বৃষ্টিতে সেই চারার বৃদ্ধি ভালো হল না। শীতের সময় ফের ফুলকপি লাগিয়েছি। পরীক্ষামূলক অবস্থাতেই রয়েছে। কিছুদিন পরে বুঝতে পারব বাইরে ফাঁকা জমিতে ভালো হতো, নাকি এই শেড নেট হাউসের ভেতরে। তবে চারা উৎপাদন ভালো হচ্ছে।



