সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: ঢেঁকিতে চাল গুঁড়ো এখন কার্যত অতীত। মেশিনে ভাঙা চালের গুঁড়ি দিয়েই মকর পরবের পিঠে বানাতে বাধ্য হচ্ছেন পুরুলিয়া শহর সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তের অধিকাংশ বাসিন্দা। কেউ বাজারে বড় মেশিন থেকে চাল ভাঙিয়ে আনছেন, কেউ আবার বাড়িতেই মিক্সিতে কোনওক্রমে কাজ সারতে বাধ্য হচ্ছেন। খুব কম জায়গাতেই ঢেঁকিতে এখনও গুঁড়ি করার প্রথা রয়েছে। তবে ঢেঁকিতে ভাঙা চাল গুঁড়ো দিয়ে তৈরি পিঠের স্বাদ যে আলাদা, তা মানছেন অনেকেই।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুলিয়া জেলাজুড়ে মকর সংক্রান্তির সময়ে বাড়ি বাড়ি রকমারি পিঠে তৈরি করা হয়। আতপ চাল এবং সেদ্ধ চাল দিয়েই মূলত পিঠেগুলি তৈরি করা হয়। মকর সংক্রান্তির কয়েকদিন আগে থেকেই এক সময় ঢেঁকিতে চাল গুঁড়ো করার রেওয়াজ ছিল। যাঁদের বাড়িতে ঢেঁকি ছিল, কয়েকবছর আগেও তাঁদের বাড়িতে মকর সংক্রান্তির আগে লাইন পড়ে যেত। মণিপুর গ্রামের বাসিন্দা সাবিত্রী মাহাত বলেন, গ্রামে ১০০টি পরিবার থাকলে মাত্র ১০টিরও কম বাড়িতে ঢেঁকি রয়েছে। প্রায় তিনদিন আগে থেকেই ওই বাড়িগুলিতে লাইন দিয়ে ঢেঁকিতে চাল গুঁড়ো করা হয়। ঢেঁকিতে করা চাল গুঁড়ো দিয়ে তৈরি পিঠের স্বাদই আলাদা। সেটা কোনওদিনই মেশিনের চাল গুঁড়ো দিয়ে সম্ভব নয়। পুরুলিয়া শহরের বাসিন্দা তাপসী মাহাত বলেন, শহরে ঢেঁকি কোথায় পাব? তাই মেশিনই ভরসা।
এ বিষয়ে পুরুলিয়া শহরের চালের গুঁড়োর বিক্রেতা খোকন সেন বলেন, মকর পরবের আগেই আতপ চাল এবং সেদ্ধ চাল মিলিয়ে ১২ কুইন্টালেরও বেশি চাল গুঁড়ো বিক্রি করেছি। ২ কিলোগ্রাম থেকে শুরু করে ৫-১০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত অনেকে চাল গুঁড়ো কিনেছেন। ফুলিয়া শহরেরই সুভাষচন্দ্র হালদার নামে আর এক চাল গুঁড়ো বিক্রেতা বলেন, সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ কেজির ২০০ বস্তা চাল গুঁড়ো বিক্রি করেছি। আতপ চালের গুঁড়ো ৪৫ টাকা এবং সেদ্ধ চালের গুঁড়ো ৫০ টাকা কিলোগ্রাম দরে বিক্রি করেছি। কেউ চাল নিয়ে এলে ৬ টাকা কিলোগ্রাম দরে তা ভাঙানো হয়েছে। মকর পরবের আগেই চাল গুঁড়োর চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। এবছরও ভালো বিক্রি হয়েছে।
এ বিষয়ে পুরুলিয়া শহরের চালের গুঁড়োর বিক্রেতা খোকন সেন বলেন, মকর পরবের আগেই আতপ চাল এবং সেদ্ধ চাল মিলিয়ে ১২ কুইন্টালেরও বেশি চাল গুঁড়ো বিক্রি করেছি। ২ কিলোগ্রাম থেকে শুরু করে ৫-১০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত অনেকে চাল গুঁড়ো কিনেছেন। ফুলিয়া শহরেরই সুভাষচন্দ্র হালদার নামে আর এক চাল গুঁড়ো বিক্রেতা বলেন, সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ কেজির ২০০ বস্তা চাল গুঁড়ো বিক্রি করেছি। আতপ চালের গুঁড়ো ৪৫ টাকা এবং সেদ্ধ চালের গুঁড়ো ৫০ টাকা কিলোগ্রাম দরে বিক্রি করেছি। কেউ চাল নিয়ে এলে ৬ টাকা কিলোগ্রাম দরে তা ভাঙানো হয়েছে। মকর পরবের আগেই চাল গুঁড়োর চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। এবছরও ভালো বিক্রি হয়েছে।



