Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুরুলিয়া জেলায় চাষিদের মধ্যে ক্রমে জনপ্রিয় হচ্ছে ‘প্যাক হাউস’

পুরুলিয়া জেলায় চাষিদের মধ্যে ক্রমে জনপ্রিয় হচ্ছে ‘প্যাক হাউস’
  • ১৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: সব্জি চাষিদের কাছে ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে ‘প্যাক হাউস’। জমি থেকে সব্জি তোলার পর বাজারজাত করার আগে পর্যন্ত প্যাক হাউসে সব্জি রাখা হয়। সেখানে ঝাড়াই বাছাই করার পর তা সুবিধা মতো বাজারজাত করতে পারছেন সব্জি চাষিরা। পুরুলিয়া জেলায় চলতি বছরে ইতিমধ্যে উদ্যানপালন দপ্তরের উদ্যোগ প্রায় ৪০টির বেশি প্যাক হাউস তৈরির অনুমোদন পেয়েছেন চাষিরা। সেই মতো কাজও শুরু হয়েছে।
Advertisement
পুরুলিয়া জেলা উদ্যানপালন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুলিয়া জেলায় বিভিন্ন ব্লকে চাষিরা সব্জি উৎপাদন করলেও পরিকাঠামগত নানা সমস্যায় সব্জির দাম পেতে সমস্যা হয়। জমিতে সব্জি চাষ করলেও সেই সব্জি তোলার পর তা ঝাড়াই-বাছাই করার মতো উপযুক্ত পরিকাঠামো পান না তাঁরা। অনেক সময় ধুয়েমুছে নিতে না পারার জন্য সব্জির দামও কম পান। সব্জি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। ফলে বেশি উৎপাদন হওয়ার পরেও সমস্যায় পড়েন চাষিরা। পুরুলিয়া জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর কৃষ্ণেন্দু নন্দন বলেন, পুরুলিয়ায় চাষিদের কাছে অন্যান্য প্রকল্পের তুলনায় প্যাক হাউস অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছে। চলতি বছরে প্রায় ৪০টি প্যাক হাউস তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই প্যাক হাউস বা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তৈরি ঘরের মধ্যে যেমন সব্জি ধোয়ার জন্য জলের ব্যবস্থা থাকবে, তেমনি সিমেন্টের মেঝেতে সব্জি বাছাই করার সুবিধা পাবেন চাষিরা। ওই প্যাক হাউস তৈরির জন্য ৫০ শতাংশ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২ লক্ষ টাকা সাবসিডি দেওয়া হয় চাষিদের। এক্ষেত্রে এই প্রকল্পের সুবিধার জন্য প্রয়োজনে ব্যাংক লোনেরও ব্যবস্থা করে দেবে দপ্তর। ওই লোনের ওপরেও আবার আলাদাভাবে ভর্তুকি পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। কৃষ্ণেন্দুবাবু আরও জানান, পুরুলিয়া জেলায় বাগমুন্ডি, ঝালদা ১, ঝালদা ২, আড়শা, জয়পুর,  বলরামপুর, বরাবাজার, মানবাজার ১ ও মানবাজার ২ ব্লকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে সব্জি চাষ হয়। ওই ব্লকগুলিতে উদ্যানপালন দপ্তরের প্রায় সব ক’টি প্রকল্পের সুবিধা পান চাষিরা। অন্যান্য ব্লকেও দপ্তরের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেখানে সব্জি চাষের পরিমাণ কম। কৃষ্ণেন্দুবাবু আরও জানান, চাষিরা উদ্যানপালন দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্লকে গিয়ে আবেদন করতে পারবেন। যে কোনও চাষি আবেদন করতে পারেন। সেই আবেদনের ভিত্তিতে ব্লকস্তর থেকে জেলাস্তরে অনুমোদনের পর প্রকল্পের সুবিধা পাবেন চাষিরা। 
সম্পর্কিত সংবাদ