Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুরুলিয়ায় একই বিল্ডিংয়ে ৩টি স্কুল, একটি ঘরেই পড়াচ্ছেন তিনজন শিক্ষক

পুরুলিয়ায় একই বিল্ডিংয়ে ৩টি স্কুল, একটি ঘরেই পড়াচ্ছেন তিনজন শিক্ষক
  • ২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
পিনাকী ধোলে, পুরুলিয়া: বিল্ডিং একটাই। তাতেই চলছে তিন তিনটে সরকারি স্কুল। পড়ুয়াদের হই হট্টগোলে পড়াশোনা কার্যত লাটে ওঠার জোগাড়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে ছেলেমেয়েদের সরকারি স্কুল থেকে ছাড়িয়ে বেসরকারি স্কুলে ভর্তি করতে বাধ্য হচ্ছেন অভিভাবকরা। পুরুলিয়া শহরের বুকে এভাবে একটি বিল্ডিংয়ে তিনটে স্কুল চলায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারাও। 
Advertisement
পুরুলিয়া শহরের নামোপাড়া শিবমন্দিরের ঠিক উল্টো দিকেই রয়েছে চ্যাটার্জীপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯১৯ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা হয়েছে। বর্তমানে স্কুলের একতলা ভবন। তাতে চার পাঁচটি ঘর রয়েছে। তাতেই চলে তিনটে স্কুল। চ্যাটার্জীপাড়া বালক প্রাথমিক বিদ্যালয়, চ্যাটার্জীপাড়া বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নামোপাড়া এসএসএন প্রাথমিক বিদ্যালয়। তিনটে স্কুলেই মোট তিনজন করে শিক্ষক আছেন।
এরমধ্যে বালিকাদের স্কুলটি চলে সকালে। বাকি দুটি ডে স্কুল। চ্যাটার্জীপাড়া বালক বিদ্যালয়ের মোট পড়ুয়ার সংখ্যা ৪৯ জন। তবে দৈনিক উপস্থিতির সংখ্যা আরও কম। অনেকে এই স্কুলে নাম না কাটিয়েই ভর্তি হয়ে গিয়েছে অন্য বেসরকারি স্কুলে। অধিকাংশ দিনই স্কুলের বেঞ্চ ফাঁকাই থাকে। স্কুলে মোট তিনজন শিক্ষক। তারমধ্যে একজন শিক্ষক মাসখানেক আগেই দু’বছরের জন্য ট্রেনিংয়ে গিয়েছেন। বর্তমানে দু’জন শিক্ষকের কাঁধেই পড়ুয়াদের দায়িত্ব রয়েছে। স্কুলের টিচার ইন চার্জ মানস মাহাত বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরেই একটি বিল্ডিংয়ে তিনটে স্কুল চলছে। বিষয়টি বিভিন্ন মহলে জানানো হয়েছে।’
অন্যদিকে, নামোপাড়া এসএসএন স্কুলটি আগে স্থানীয় একটি ক্লাবে চলত। ২০১৪ সাল নাগাদ চ্যাটার্জীপাড়া স্কুলের একটি ঘর বরাদ্দ করা হয়েছে এসএসএন স্কুলের জন্য। প্রাক প্রাথমিক থেকে ক্লাস ফোর পর্যন্ত এই স্কুলের পড়ুয়ার সংখ্যা বর্তমানে ৪১ জন। তবে, দৈনিক উপস্থিতির সংখ্যা কম। এই স্কুলেও তিনজন শিক্ষক রয়েছেন। কিন্তু শ্রেণিকক্ষ মাত্র একটি। তাই একটি ঘরেই তিন শিক্ষক পড়ুয়াদের পড়াচ্ছেন! এতে পড়াশোনা কেমন হচ্ছে, তা আর আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এই স্কুলের সহ শিক্ষক সুমিত সরকার বলেন, খুবই অসুবিধার মধ্যে পড়ুয়াদের পড়াতে হচ্ছে। জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। আশা করছি তাঁরা এব্যাপারে উপযুক্ত পদক্ষেপ করবেন।
এনিয়ে পুরুলিয়া পুরসভার চেয়ারম্যান নব্যেন্দু মাহালি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমরা এনিয়ে বৈঠক করেছি। শহরের স্কুলগুলির বেহাল অবস্থার কথা তাঁকে তুলে ধরা হয়েছে। আশা করছি উনি ব্যবস্থা নেবেন। জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান তথা বান্দোয়ানের বিধায়ক রাজীবলোচন সরেন বলেন, এরকম সমস্যা জেলার একাধিক স্কুলেই রয়েছে। আমরা সেই সমস্যাগুলি খুঁজে বের করছি। শীঘ্রই এনিয়ে কাজ শুরু করব। 
এসএফআই-এর পুরুলিয়া জেলা সম্পাদক সুব্রত মাহাত বলেন, তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। সরকারি স্কুলে পঠনপাঠন অনেকদিন আগেই লাটে উঠে গিয়েছে। ঘুষ দিয়ে শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রী জেলে। মানুষের উচিত এই সরকারকে উপড়ে ফেলা।
সম্পর্কিত সংবাদ