Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুরুলিয়ায় বনসৃজন প্রকল্পে দুর্নীতির ছায়া, তদন্তের দাবি

পুরুলিয়ায় বনসৃজন প্রকল্পে দুর্নীতির ছায়া, তদন্তের দাবি
  • ৬ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
পিনাকী ধোলে, পুরুলিয়া: বনসৃজন প্রকল্পকে ঘিরে বেলাগাম দুর্নীতির অভিযোগ উঠল পুরুলিয়ায়। চারাগাছ লাগানো থেকে শুরু করে শ্রমিকদের নায্য মজুরি প্রদান—সবেতেই কারচুপি হয়েছে বলে অভিযোগ। রাজ্যের মুখ্য বনপালের কাছে লিখিত আকারে অভিযোগ পাঠিয়েছে প্রকল্পে অংশগ্রহণকারী শ্রমিকদের একটা বড়অংশ। বিষয়টি জানাজানি হতেই তেতে উঠছে জেলা রাজনীতিও। বিরোধীদলগুলি ‘সবুজেও কেলেঙ্কারি’ অ্যাখ্যা দিয়ে তদন্তের দাবি তুলেছে।   যদিও পুরুলিয়া বনবিভাগের ডিএফও অঞ্জন গুহ বলেন, ‘আমার কাছে এখনও পর্যন্ত এমন কোনও অভিযোগ আসেনি। কোনও অভিযোগ আকারে কোনও চিঠিও পাইনি। তবে, যেহেতু একটি অভিযোগ উঠেছে, সেটি খতিয়ে দেখা হবে।’ তৃণমূলও বলছে, অভিযোগ সত্যি হলে তদন্ত হওয়া উচিত।
Advertisement
বনদপ্তর সূত্রের খবর, জেলায় মোট তিনটি বনবিভাগ রয়েছে। পুরুলিয়া, কংসাবতী উত্তর ও কংসাবতী দক্ষিণ বনবিভাগ। এছাড়াও বনসম্প্রসারণ বিভাগ রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সমস্ত বনবিভাগ মিলিয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচশো হেক্টর জমিতে বনসৃজন করার কথা ছিল বর্ষাকালে। এক হেক্টর জমিতে এক হাজার ৬০০টি গাছ লাগানোর কথা।  প্রতি গাছ পিছু খরচ ধরা হয়েছিল ৭০ টাকার আশেপাশে।  কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাত কারণে বর্ষার মরশুম শেষ হওয়ার পর প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।  মূলত, অনিয়মের সূত্রপাত এখান থেকেই বলে শ্রমিক মহলের মত। শুধু তাই নয়, প্রকল্পে যে পরিমাণ গাছ লাগানোর কথা ছিল, সেই পরিমাণ গাছ লাগানো হয়নি। বহু এলাকাতেই তার অর্ধেকও বসানো হয়নি বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অথচ, ওই পরিমাণ গাছ লাগানো বাধ্যতামূলক করেছিল বনদপ্তর। গাছ লাগানোর পর তা রক্ষণাবেক্ষণ, বেড়া দেওয়া, প্রতিদিন দু’বেলা জল দেওয়া, সার-কীটনাশক দেওয়া, গাছের গোড়া আগাছামুক্ত রাখার স্পষ্ট নির্দেশিকা থাকলেও তা করা হয়নি। ফলে,প্রতি বছর যে পরিমাণ চারাগাছ লাগানো হয়েছে সেগুলির অধিকাংশই মারা গিয়েছে। 
বনদপ্তর সূত্রের খবর, গাছ লাগানো থেকে শুরু করে গাছের রক্ষণাবেক্ষণে শ্রমিকদের পৃথক মজুরি ধার্য থাকে। সেক্ষেত্রেও অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে জেলার বনবিভাগগুলির বিরুদ্ধে। বনদপ্তরের এক আধিকারিক জানাচ্ছেন, বনসৃজন প্রকল্পের সমস্ত কাজই যৌথ বন পরিচালন কমিটির সদস্যদের দিয়ে করানোর কথা। মজুরির টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। যার অর্ডার নম্বর— আই/72515/2019 তবে, এই নিয়ম থেকে গিয়েছে কেবল খাতায় কলমে।’ জেলার বন পরিচালন কমিটির বহু সদস্যদের দাবি, ব্যাঙ্কে নয়, তাঁদের মজুরির টাকা দেওয়া হয়েছে নগদে। তাও নায্য মজুরির থেকে অনেক কম। যেমন, আড়ষার বনপরিচালন কমিটির সদস্যদের মধ্যে অনেকের অভিযোগ, গাছ লাগানোর জন্য একেকটি গর্ত খুঁড়তেই ন’টাকা থেকে সাড়ে এগারো টাকা পর্যন্ত দেওয়ার নিয়ম রয়েছে বনদপ্তরের। দেওয়া হয়েছে মাত্র পাঁচ থেকে ছ’টাকা। একইভাবে চারাগাছ রক্ষণাবেক্ষণের আলাদা আলাদা মজুরি রয়েছে। কিন্তু কোনও ক্ষেত্রেই সরকারের বেঁধে দেওয়া মজুরি দেওয়া হয়নি শ্রমিকদের। তাহলে সেই টাকা গেল কোথায়? কার পকেটে ঢুকল? এমন প্রশ্ন তুলে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন শ্রমিকদের একটা বড় অংশ। 
বনসৃজন প্রকল্পে এমন ভুরিভুরি অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই ময়দানে নেমে পড়েছে বিজেপি। দলের জেলা সহ সভাপতি গৌতম রায় বলেন, ‘এবার সবুজেও দুর্নীতি। বনসৃজন প্রকল্পে কারচুপি আর কাঠ পাচার করেই জেলার বহু আধিকারিক ও নেতা ফুলে ফেঁপে কলাগাছ হয়ে উঠেছেন।’ 
জেলা পরিষদে কো-মেন্টর তথা তৃণমূলের জেলা সহ সভাপতি জয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বনসৃজন প্রকল্পে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করছে।কিন্তু কেন এই ধরনের অভিযোগ উঠবে? এই অভিযোগ যদি সত্যিই হয়, তাহলে প্রশাসন তদন্ত করে দেখুক।’
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ