নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: উদ্বেগজনক হারে পুরুলিয়া জেলায় বাড়ছে গোদ বা ফাইলেরিয়া। এই মুহূর্তে আক্রান্তের নিরিখে গোটা রাজ্যের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে জেলা। স্বাভাবিকভাবে ইউদ্বিগ্ন জেলার স্বাস্থ্য কর্তারা। আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে ফাইলেরিয়া মুক্ত দেশ গড়ার ডাক দিয়েছে কেন্দ্র। কিন্তু ‘প্রদীপের নীচে অন্ধকার’-এর হাতে গরম উদাহরণ পুরুলিয়া। স্রেফ, সার্বিক সচেতনতার অভাবে আজও নির্মূল হচ্ছে না মারাত্মক এই রোগ।
Advertisement
ফাইলেরিয়া মশাবাহিত রোগ। হাত ফোলা, পা ফোলা, হাইড্রোসিলএই রোগের প্রধান লক্ষ্মণ। কিউলেক্স মশার কামড়ের কয়েক বছর পর এই রোগ দেখা যায়। মশার লালার মাধ্যমে ফাইলেরিয়া নামের এক পরজীবী মানুষের শরীরে ঢুকে রক্তে মিশে যায় এবং লসিকা গ্রন্থিগুলিকে সংক্রমিত করে। সেগুলি ক্রমেই ফুলে উঠতে শুরু করে। দেহরসের সংবহনে বাধা তৈরি হয়। তখন হাত-পা ফুলে উঠতে থাকে। পায়ের কিছু গ্রন্থি ফুলে যায়। হাঁটাচলায় সমস্যা হয়। পঙ্গুও হয়ে যেতে পারেন।
জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রের খবর, পুরুলিয়া জেলায় এই মুহূর্তে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ১১হাজার ৮৮২জন। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা কাশীপুর ব্লকে ১২৫১জন। পুরুলিয়া-২ ব্লকে ১০৫৫ জন। পাড়া ব্লকে ৮৮২জন, হুড়া ৮৬৫ জন এবং পুঞ্চায় আক্রান্তের সংখ্যা ৮২৬ জন।পাশাপাশি জেলাজুড়ে হাইড্রোসিল আক্রান্তের সংখ্যা ৩৪০৪ জন। স্বাস্থ্যকর্তাদের দাবি, রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত পুরুলিয়াতেই। এক স্বাস্থ্য আধিকারিকের রসিকতা, ‘ডেঙ্গু ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, এই নিয়েই পুরুলিয়া!’ পুরুলিয়া জেলাজুড়ে মশা বাহিত রোগের সংখ্যা প্রতি বছর যেন হু হু করে বাড়ছে। এবছরও ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছিল জেলায়। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার ছুঁইছুঁই।সবকিছু মূলে সচেতনতার অভাবকেই দায়ী করছেন ওয়াকিবহাল মহল। স্বাস্থ্যকর্তারা জানাচ্ছেন, যে-সব রোগের বিষয়ে এ দেশে সচেতনতার অভাব সব চেয়ে বেশি, তার প্রথম সারিতেই রয়েছে ফাইলেরিয়া। এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার শুরুর দিকে বিশেষ জ্বর, হাত পা ফোলার মতো কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। তবে, তেমন বিশেষ সমস্যা না হওয়ায় অনেকেই রোগটিকে এড়িয়ে যান। তারপর কয়েক বছর পর যখন এই রোগের প্রকোপ বাড়তে থাকে, তখন আর কিছুই করার থাকে না। চিকিৎসার সুযোগ পাওয়া যায় না। আক্রান্তরা কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন।পুরুলিয়ারউপ-মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক(২) মহুয়া মহান্তি বলেন, ফাইলেরিয়ার প্রকোপ কমাতে কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী ২০০৪ সাল থেকে সুসংহত ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন প্রোগ্রাম (এমডিএ) চালানো হয়। যেসব জেলায় ফাইলেরিয়ার প্রাদুর্ভাব আছে, সেখানকার বাসিন্দাদের জন্য ওষুধ দেওয়া হয় ওই কর্মসূচিতে।
স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্তাদের দাবি, প্রতি বছর ১০ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ফাইলেরিয়ার ওষুধ খাওয়ানো হয়। টানা পাঁচ বছর একই দিনে একই এলাকার মানুষ যদি এই ওষুধ খায়,তা হলে ওই এলাকাকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।এবছরেও এই কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ফাইলেরিয়া আক্রান্ত রোগীদের মেডিক্যাল কিট দেওয়া হয়।তাঁরা কিভাবে রোগের যত্ন নেবেন, তাও শিখিয়ে দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যকর্তারাও মানছেন,গোদ নিয়ে এখনও সার্বিক সচেতনতার অভাব রয়েছে বহু জায়গায়। কীভাবে সচেতনতা বাড়ানো হবে, তার চেষ্টা চলছে।
জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রের খবর, পুরুলিয়া জেলায় এই মুহূর্তে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ১১হাজার ৮৮২জন। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা কাশীপুর ব্লকে ১২৫১জন। পুরুলিয়া-২ ব্লকে ১০৫৫ জন। পাড়া ব্লকে ৮৮২জন, হুড়া ৮৬৫ জন এবং পুঞ্চায় আক্রান্তের সংখ্যা ৮২৬ জন।পাশাপাশি জেলাজুড়ে হাইড্রোসিল আক্রান্তের সংখ্যা ৩৪০৪ জন। স্বাস্থ্যকর্তাদের দাবি, রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত পুরুলিয়াতেই। এক স্বাস্থ্য আধিকারিকের রসিকতা, ‘ডেঙ্গু ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, এই নিয়েই পুরুলিয়া!’ পুরুলিয়া জেলাজুড়ে মশা বাহিত রোগের সংখ্যা প্রতি বছর যেন হু হু করে বাড়ছে। এবছরও ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছিল জেলায়। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার ছুঁইছুঁই।সবকিছু মূলে সচেতনতার অভাবকেই দায়ী করছেন ওয়াকিবহাল মহল। স্বাস্থ্যকর্তারা জানাচ্ছেন, যে-সব রোগের বিষয়ে এ দেশে সচেতনতার অভাব সব চেয়ে বেশি, তার প্রথম সারিতেই রয়েছে ফাইলেরিয়া। এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার শুরুর দিকে বিশেষ জ্বর, হাত পা ফোলার মতো কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। তবে, তেমন বিশেষ সমস্যা না হওয়ায় অনেকেই রোগটিকে এড়িয়ে যান। তারপর কয়েক বছর পর যখন এই রোগের প্রকোপ বাড়তে থাকে, তখন আর কিছুই করার থাকে না। চিকিৎসার সুযোগ পাওয়া যায় না। আক্রান্তরা কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন।পুরুলিয়ারউপ-মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক(২) মহুয়া মহান্তি বলেন, ফাইলেরিয়ার প্রকোপ কমাতে কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী ২০০৪ সাল থেকে সুসংহত ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন প্রোগ্রাম (এমডিএ) চালানো হয়। যেসব জেলায় ফাইলেরিয়ার প্রাদুর্ভাব আছে, সেখানকার বাসিন্দাদের জন্য ওষুধ দেওয়া হয় ওই কর্মসূচিতে।
স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্তাদের দাবি, প্রতি বছর ১০ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ফাইলেরিয়ার ওষুধ খাওয়ানো হয়। টানা পাঁচ বছর একই দিনে একই এলাকার মানুষ যদি এই ওষুধ খায়,তা হলে ওই এলাকাকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।এবছরেও এই কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ফাইলেরিয়া আক্রান্ত রোগীদের মেডিক্যাল কিট দেওয়া হয়।তাঁরা কিভাবে রোগের যত্ন নেবেন, তাও শিখিয়ে দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যকর্তারাও মানছেন,গোদ নিয়ে এখনও সার্বিক সচেতনতার অভাব রয়েছে বহু জায়গায়। কীভাবে সচেতনতা বাড়ানো হবে, তার চেষ্টা চলছে।



