Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রকৃতির রঙে সেজে উঠেছে চাতন ডুংরি ও বাঁশপাহাড়ীর পলাশবন

প্রকৃতির রঙে সেজে উঠেছে চাতন ডুংরি ও বাঁশপাহাড়ীর পলাশবন
  • ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: বসন্তে আগুন রাঙা পলাশ ফুলে ভরে ওঠে জঙ্গল। চাতান ডুংরিও বাঁশপাহাড়ীর পাদদেশে শুরু হয় ঋতুরাজ বসন্তের উৎসব। বেলপাহাড়ীর পলাশ বনের টানে দূরদূরান্ত থেকে আসেন পর্যটকরা। এবারও পর্যটন ব্যবসায়ীরা বসন্ত উৎসবে জেলায় রেকর্ড ভিড়ের আশা করছেন। জঙ্গল ও পাহাড় লাগোয়া বেশিরভাগ হোটেল, রিসর্ট, হোমস্টে, লজ ইতিমধ্যেই বুকিং হয়ে গিয়েছে।
Advertisement
বেলপাহাড়ীর অরণ্যের রূপ বিভিন্ন ঋতুতে পাল্টে যায়। ফাল্গুন মাসে গাছের পাতা ঝড়তে শুরু করে। পলাশ বনে গুচ্ছে গুচ্ছে কুড়ি আসে। ফুল ফোটার সঙ্গে পলাশ বন যেন হয়ে ওঠে আগুন শিখার বন। বেলপাহাড়ীর অন্যতম পর্যটনস্থল চাতন পাহাড়। বসন্তে পাহাড়ের পাদদেশজুড়ে থাকা পলাশ বন অপরূপ সৌন্দর্যে ভরে ওঠে। বাঁশপাহাড়ীর পাদদেশজুড়েও পলাশ বন ছড়িয়ে আছে। পাহাড়-জঙ্গল এলাকার মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে তাঁদের নিজস্ব উৎসবে মেতে ওঠেন। পলাশ বন ভরে ওঠে নানা পাখির কলরবে। বেলপাহাড়ী ব্লক সদর থেকে সোজা ওদলচুয়া-কাঁকড়ঝোর রাস্তা দিয়ে চার কিমি পথ পেরলে বদাডি মোড়। সেখান থেকে ডান দিকে দু’কিমি গেলেই চাতন পাহাড়। এখানেই পলাশবনের দেখা মিলবে, যা দেখতে হাঁটাপথ ধরতে হবে। বেলপাহাড়ী চেক পোস্ট থকে কাঁকড়াঝোড় রাস্তা ধরে এগোলেই বাঁশপাহাড়ীর পাদদেশ। সেখানেও ছড়িয়ে রয়েছে পলাশের বন। বরহাপাল রাজারানি পাহাড় ফুলে সেজে ওঠে।  চাতন পাহাড়ে একসময় বাঘেরা ঘুরে বেড়াত। যার প্রমাণ বহন করছে বাঘগুহা। প্রকৃতির হাতছানি এই এলাকায় পর্যটকদের আসার সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছে। পর্যটক বাড়ায় বেলপাহাড়ীতে একাধিক রিসর্ট, হোমস্টে, লজ গড়ে উঠেছে। কাঁকড়াঝোড়ে ২১টি হোমস্টে ও রিসর্ট রয়েছে। বাঁশপাহাড়ীতে আছে ৫টি। চাকাডোবায় ২টি। ঘাগড়াতে ১টি। আগুইবিলে চারটে হোমস্টে। বসন্ত উৎসব এখনও দেরি আছে। পর্যটকরা অনেক আগে থেকেই এবার হোটেল, রিসর্ট, লজ, হোমস্টে বুকিং করছেন। 
ঝাড়গ্রাম হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শিবাশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন, এবার বসন্ত উৎসবের সময় রেকর্ড ভিড়ের আশা করছি। যেসব জায়গায় পলাশ বন আছে পর্যটকদের আকর্ষণ মূলত সেইসব এলাকার প্রতি। পর্যটকরা প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার সঙ্গে পাহাড় জঙ্গলে স্থানীয় উৎসবে যাতে শামিল হতে পারেন তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বেলপাহাড়ী ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র বিধান দেবনাথ বলেন, পাহাড়ের পাদদেশে থাকা পলাশ বন বসন্তে সেজে ওঠে। প্রকৃতির সৌন্দর্য সেই সঙ্গে আদিম মানুষের গুহাগুলি আজ অপার রহস্য নিয়ে পর্যটকদের আকর্ষণ করছে। পলাশবনে বসন্তের আগমন বার্তা শুরু হয়ে গিয়েছে। এখন শুধু উৎসবের অপেক্ষা।
 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ