Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পরিকাঠামোর অভাবে ধুঁকছে কাঁথির দেশপ্রাণ ব্লকের কালিকাপুর হাইস্কুল

পরিকাঠামোর অভাবে ধুঁকছে কাঁথির দেশপ্রাণ ব্লকের কালিকাপুর হাইস্কুল
  • ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, কাঁথি: নামেই স্কুল। কিন্তু রয়েছে নানা পরিকাঠামোর অভাব। স্কুলে পানীয় জলের নলকূপ দীর্ঘদিন অকেজো। শিক্ষক-শিক্ষিকার অভাব। অভাব অতিরিক্ত ক্লাসরুমের। এই ছবি কাঁথির দেশপ্রাণ ব্লকের কালিকাপুর হাইস্কুলের। ব্লকের চালতি পঞ্চায়েতের কালিকাপুর গ্রামে এই স্কুলটি রয়েছে। স্কুলটি প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৬১সালে। পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণি মিলিয়ে একশোর কাছাকাছি ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে।  সমস্যা হল,  যে নলকূপটি রয়েছে, তা বেশ কয়েকবছর হল অকেজো।  একটি সাবমার্সিবল পাম্প তৈরি হয়েছে বটে, সেই জল পানের যোগ্য নয়। তা বাসনপত্র ধোওয়া সহ অন্যান্য কাজে লাগে। অগত্যা ছাত্রছাত্রীরা বোতলে করে বাড়ি থেকে জল নিয়ে আসে। অনেক সময় সামনের পুকুরের জলেই মিডডে মিলের রান্না হয়। উপায় না থাকায় পুকুরের জল ব্যবহার করতে হয় বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। আবার মিডডে মিলের রান্না যেখানে হয়, সেই পুরনো টালির চালার বিল্ডিংও বেশ কয়েকবছর আগে পরিত্যক্ত হয়ে গিয়েছে। বছর দশেক আগে নতুন বিল্ডিংয়ের কাজ শেষ হওয়ায় ওই বিল্ডিংটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। সেখানে একটি ঘরে কোনওরকমে মিডডে মিলের রান্না হয়। ভগ্নপ্রায় ঘরে দুর্ঘটনার আশঙ্কা যেমন রয়েছে, তেমনি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের প্রশ্ন এসে যায়। জায়গা না থাকায় সেখানে রান্না করতে হচ্ছে , এমনটাই জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্কুলের একতলায় চারটি ঘর রয়েছে। তার মধ্যে দুটি ঘরে ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস করানো হয়। বাকি দুটি ঘরের মধ্যে একটি কম্পিউটার রুম কাম ক্লাসরুম এবং আর একটি স্টাফ রুম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দোতলায় তিনটি ঘর রয়েছে। তবে দোতলার ছাদের টিনের চালা ২০২০ সালে উম-পুন ঝড়ে উড়ে যাওয়ার পর তা আর মেরামত করা হয়নি। বৃষ্টি হলেই বারান্দায় জল চলে আসে। তখন ছাত্রছাত্রীদের বসে মিডডে মিল খাওয়া কিংবা হাঁটাচলার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। স্কুলে বাংলা, ইংরেজি, অঙ্ক সহ অন্যান্য বিভাগে শিক্ষক-শিক্ষিকা মিলিয়ে বর্তমানে আটজন রয়েছেন। রয়েছেন  দুই শিক্ষাকর্মীও। তবে বিজ্ঞান বিভাগে একজন শিক্ষক রয়েছেন। আর শিক্ষকের একটি পদ খালি রয়েছে। এই স্কুল থেকে পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে বড়বানতলিয়া হাইস্কুল ও চালতি নগেন্দ্র বিদ্যাপীঠ। এছাড়া একাধিক আপার প্রাইমারি স্কুল রয়েছে। স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতেও পঞ্চম শ্রেণি রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ক্রমশই কমছে। স্থানীয় বাসিন্দা নিতাইচন্দ্র দাস বলেন, স্কুলটির পরিকাঠামোর মানোন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হোক। তাহলে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বাড়বে। প্রধানশিক্ষক তীর্থঙ্কর জানা বলেন, আমরা সমস্ত সমস্যার কথা সংশ্লিষ্ট মহলে জানিয়েছি। এবিষয়ে বিডিও শুভাশিস মজুমদার বলেন, আমরা সমস্যা সম্পর্কে অবগত। চালা মেরামতের ব্যাপারে স্কিম তৈরি করে জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ হলে কাজ হবে। বাকি সমস্যাগুলি ধীরে ধীরে মেটানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ