সংবাদদাতা, মানকর: পাকাপাকি ভাবে বন্ধ হয়ে গেল বুদবুদ থানার গলসি-১ ব্লকের সন্ধিপুর আদর্শ জুনিয়র হাইস্কুল। বাইশজন পড়ুয়াকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট দিয়ে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ পরিকাঠামো গড়ে না তোলার জন্যই বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে গেল। এসআই জয়ন্ত বর্মন বলেন, অস্থায়ী শিক্ষকদের দিয়েই বিদ্যালয়টি চলছিল। ওঁদের পাঁচ বছরের মেয়াদ ছিল। সেটি এই শিক্ষাবর্ষের মধ্যে শেষ হচ্ছিল। পড়ুয়াদের যাতে কোনও সমস্যা না হয় সেজন্য টিসি দিয়ে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। পাশাপাশি অতিথি শিক্ষকের জন্যও অফিসে জানানো হয়েছে। শিক্ষক পেলে বিদ্যালয় ফের চালু হবে। স্থানীয়রা জানান, ব্লকের সন্ধিপুর, ঘোষপাড়া, বড়চাদরা, টাটোরবাঁধ সহ কয়েকটি গ্রামের ছেলেমেয়েদের ভরসা ছিল এই সন্ধিপুর জুনিয়র হাইস্কুল। ২০১০ সালে স্কুলটি চালু হয়। তখন থেকেই অস্থায়ী শিক্ষকের ভরসায় চলছিল স্কুল। একসময় অস্থায়ী শিক্ষক ছিলেন পাঁচজন। সেই সংখ্যা কমে দুই হয়েছিল। তবে এলাকার দুই উচ্চশিক্ষিত যুবক বিদ্যালয় চালাতে এগিয়ে এসেছিলেন। শুরুর দিকে প্রায় ২০০ জন পড়ুয়া ছিল। গত শিক্ষাবর্ষে পড়ুয়ার সংখ্যা ছিল পঁয়ত্রিশ। তার মধ্যে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা সম্পূর্ণ হওয়ায় এমনিতেই এগারো জনকে টিসি দেওয়া হয়েছিল। সব শ্রেণি মিলিয়ে বাকি বাইশজনকেও টিসি দেওয়ায় বিদ্যালয় পড়ুয়াশূন্য হয়ে গিয়েছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুলের সীমানা পাঁচিল বলে কিছু নেই। পড়ে থাকে মদের বোতল। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, গত আগস্ট মাসে বিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলছিল। সেই সময় মদ্যপ অবস্থায় এক ব্যক্তি স্কুলে হাজির হয়ে শিক্ষকদের গালিগালাজ করে বাঁশ নিয়ে চড়াও হয়। এরপর থেকেই পড়ুয়া ও শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। শিক্ষক অরুণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, বিদ্যালয়ে পরিকাঠামোর মধ্যে অন্যতম শৌচালয়। একাধিকবার শৌচালয়ের দরজা ভাঙা হয়েছে। ফলে ছাত্রীদের সমস্যা হতো। পরিকাঠামো না থাকার জন্যই এই পরিস্থিতি হল। দীর্ঘ আট বছর বিনা পয়সায় পড়িয়েছেন গ্রামের যুবক সাদেরে আলম মল্লিক ও যুধিষ্ঠির বাগদি। সাদেরে বলেন, স্কুলকে খুব ভালোবাসি। চেয়েছিলাম স্কুল চালু থাকুক। নিঃস্বার্থ সেবা দিয়েছি। আশাকরি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাদের দিকটি বিবেচনা করবে।



