Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পরিকাঠামো নেই, যেকোনও দিন বন্ধ হতে পারে সাইকিয়াট্রির এমডি কোর্স

পরিকাঠামো নেই, যেকোনও দিন বন্ধ হতে পারে সাইকিয়াট্রির এমডি কোর্স
  • ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে সাইকিয়াট্রি বিভাগে এমডি সিট যেকোনও দিন বাতিল হয়ে যেতে পারে। অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ছাড়াই চলছে এই বিভাগ। ন্যাশনাল মেডিক্যাল কাউন্সিলের গাইডলাইন অনুযায়ী, এমডি সিট পেতে গেলে অন্তত একজন অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর থাকতে হবে। গাইডলাইন মতো প্রফেসর, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর থাকলেও কোনও অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর নেই। সমস্যা আরও রয়েছে। রোগীর সংখ্যা বাড়লেও ডাক্তারের সংখ্যা কমছে। 
Advertisement
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এখানকার সাইকিয়াট্রি বিভাগে দিনে গড়ে পাঁচশোরও বেশি মানসিক রোগী আউটডোরে আসছে। সেখানে ডাক্তার মাত্র চারজন। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সাইকিয়াট্রি বিভাগের প্রধান ডাঃ নির্মল বেরা বলেন, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী এমডি সিট থাকতে গেলে অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর থাকাটা বাধ্যতামূলক। কিন্তু আমাদের এখানে সংশ্লিষ্ট পদ শূন্য পড়ে রয়েছে। বিষয়টি ন্যাশনাল মেডিক্যাল কাউন্সিলের নজরে এলে আমাদের এখানকার দু’টি এমডি সিট বাতিল হয়ে যেতে পারে। এর পাশাপাশি সমস্যা দেখা দিয়েছে রোগী অনুপাতে ডাক্তারের সংখ্যা কম হওয়ায়। 
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের আউটডোরে মানসিক রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। শিলিগুড়িতে মাদকাসক্তের সংখ্যা বাড়ায় মানসিক রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, যাঁরা আসছেন তাঁদের অধিকাংশই মাদকাসক্তি থেকেই মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ডাঃ নির্মল বেরা বলেন, দিনে ৫০০ থেকে ৫৫০ রোগী আউটডোরে আসছেন প্রতিদিন। সেখানে আমাকে নিয়ে চারজন ডাক্তার রয়েছেন। তিনজন সিনিয়র রেসিডেন্টের মধ্যে দু’জনকে বদলি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিদিন রোগী দেখার ক্ষেত্রে ডাক্তারের সংখ্যা কম হওয়ায় সবদিক দিয়ে সমস্যা হচ্ছে। চারজন ডাক্তার দিয়ে গড়ে প্রতিদিন পাঁচশো রোগী দেখতে গেলে আট থেকে ন’ঘণ্টা আউটডোর চলার কথা। একজন রোগী দেখতে কমপক্ষে তিন মিনিট কখনও তারও বেশি সময় লাগে। ডাক্তারের সংখ্যা কম হওয়ায় তা সম্ভব হচ্ছে না। 
সমস্যার এখানেই শেষ নয়। এখানে সাইকোলজিস্টের পদ নিয়ে জটিলতা রয়েছে। একজন সাইকোলজিস্ট রয়েছেন। কিন্তু ন্যাশনাল মেডিক্যাল কাউন্সিলের গাইড লাইন অনুযায়ী তিনি স্বীকৃত সাইকোলজিস্ট নন। এ প্রসঙ্গে ডাঃ বেরা বলেন, আমাদের এখানে যিনি সাইকোলজিস্ট রয়েছেন তিনি এমএ পাশ। ন্যাশনাল মেডিক্যাল কাউন্সিলের গাইডলাইন অনুযায়ী সাইকোলজিস্টের এমফিল ডিগ্রি থাকতেই হবে। তাতে বর্তমানে এখানে যিনি সাইকোলজিস্টের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁর আইনি বৈধতা নিয়েও যেকোন মুহূর্তে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। এসব সমস্যার সমাধানের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তথা স্বাস্থ্যভবনে জানিয়েছি। অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, ডাক্তার ও সাইকোলজিস্ট চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। এখনও কোনও সাড়া মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে এমডি সিট ধরে রাখার ব্যাপারে আমরা চিন্তায় রয়েছি।
সম্পর্কিত সংবাদ