নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: নীলিমা ঘোষের (নাম পরিবর্তিত) রক্ত পজিটিভ গ্রুপের। দু’সপ্তাহ আগে জেলার একটি ল্যাবরেটরি থেকে রক্ত পরীক্ষা করে জানতে পারেন তিনি নাকি নেগেটিভ গ্রুপের। রীতিমতো ভয় পেয়ে যান তিনি। নীলিমাদেবীর মতো এমন অহরহ ঘটনা ঘটছে বহরমপুরের বিভিন্ন রোগী এবং রোগীর পরিজনদের সঙ্গে। শুধু ব্লাড গ্রুপ নয়, রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষায় দ্রুত রিপোর্ট তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে রোগীকে। সস্তায় সেই রিপোর্ট তৈরি করে দেওয়ার প্রতিযোগিতায় অধিকাংশই রিপোর্ট হচ্ছে ‘মনগড়া’। স্বাস্থ্যদপ্তরের নজরদারির অভাবেই বেশকিছু ক্লিনিক ও ল্যাব রোগীদের রিপোর্ট তৈরি নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা শুরু করেছে। যা থেকেই রোগীর জীবনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
Advertisement
অভিযোগ, বহরমপুর শহরের যত্রতত্র গজিয়ে ওঠা ক্লিনিক ও প্যাথলজি সেন্টারগুলিতে পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে কোনও নিয়ম মানা হচ্ছে না। রক্ত, মল ও মূত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন উপাদানের মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য যে যে উপকরণ ব্যবহার দরকার সেগুলি ফুরিয়ে গেলেও অনেক ল্যাবরেটরি তা ব্যবহার করছে না। মারাত্মক এই অভিযোগ উঠছে বহরমপুরের বিভিন্ন ল্যাবে। ল্যাবের বেশকিছু দায়িত্বশীল কর্মী এ ব্যাপারে অভিযোগ জানাতে গেলে অনেকের চাকরিও খোয়া যাচ্ছে।
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সন্দীপ স্যানাল বলেন, রোগীর পরিজনদের অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেব। এক্ষেত্রে লিখিত দিতে হবে এমন কোনও ব্যাপার নেই। ফোনে অথবা মেল করলেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্লক ও মহকুমা হাসপাতালগুলিতে সমস্ত ধরনের টেস্টের ব্যবস্থা আছে। মানুষ যেন সেখানে যায়।
শহরের একটি নার্সিংহোমের রেসিডেন্ট মেডিক্যাল অফিসার তথা সার্জেন আকাশদীপ ঘোষ বলেন, দু’সপ্তাহ আগেই আমার কাছে এক রোগী এসেছিলেন। উনি পরীক্ষা করে জেনেছিলেন তাঁর ব্লাড গ্রুপ নেগেটিভ। যা বিরল। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তির পর রোগীর পরিজনকে এক ইউনিট নেগেটিভ ব্লাড আনতে বলা হয়। তিনদিন হন্যে হয়ে ঘুরে ডোনার জোগাড় করতে পারেননি। আমাদের সন্দেহ হওয়ায় আমরা ব্লাড স্যাম্পেল টেস্ট করাই। এমনকী একটি সরকারি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে ব্লাড স্যাম্পেলের ক্রস ম্যাচ করে আমরা জানতে পারি উনি পজিটিভ গ্রুপের। নেগেটিভ ও পজিটিভ গ্রুপের এই ভুলের জন্য রোগীর জীবনহানি ঘটতে পারত।
আকাশদীপবাবু আরও বলেন, রক্তের ভুল রিপোর্টের জন্য শুধু যে নির্দিষ্ট সেই রোগীর জীবনহানির সম্ভবনা থাকছে, তাই নয়। তার সঙ্গে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জীবনের ঝুঁকিও থাকে। উদাহরণ হিসেবে নেওয়া যেতে পারে, অনেক সময় দেখা যাচ্ছে রোগীর সেরোলজি পরীক্ষার রিপোর্টে নেগেটিভ বা নন রিয়াকটিভ কথাটি উল্লেখ থাকলেও রিপিট টেস্টে সেরোলজি পজিটিভ আসছে। অর্থাৎ, সে এইচআইভি পজিটিভ। এমন রিপোর্ট ভুল থাকায় অজান্তেই অনেকেই বিপদের সম্মুখীন হচ্ছেন। চিকিৎসকদের দাবি, রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই রোগ নির্ণয় হয়ে থাকে। অথচ শহর ও শহরতলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা প্যাথলজি সেন্টারে নিয়ম নীতিকে তোয়াক্কা না করেই রিপোর্ট ধরিয়ে দিচ্ছেন রোগীর পরিজনদের হাতে। বাজারের প্রতিযোগিতায় নিজেদের আগে রাখতে ও বাজার ধরতে অনেক ডায়াগনস্টিক সেন্টার কম দামে রক্ত পরীক্ষার কথা প্রচার করছে। যে অর্থমূল্যে তারা রক্ত পরীক্ষার কথা বলে প্রচারের আলোয় আসতে চাইছে, তাতে বিজ্ঞানসম্মত ও স্ট্যান্ডার্ড প্রটোকল মেনে রক্তের রিপোর্ট তৈরি করা সম্ভব নয় বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সন্দীপ স্যানাল বলেন, রোগীর পরিজনদের অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেব। এক্ষেত্রে লিখিত দিতে হবে এমন কোনও ব্যাপার নেই। ফোনে অথবা মেল করলেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্লক ও মহকুমা হাসপাতালগুলিতে সমস্ত ধরনের টেস্টের ব্যবস্থা আছে। মানুষ যেন সেখানে যায়।
শহরের একটি নার্সিংহোমের রেসিডেন্ট মেডিক্যাল অফিসার তথা সার্জেন আকাশদীপ ঘোষ বলেন, দু’সপ্তাহ আগেই আমার কাছে এক রোগী এসেছিলেন। উনি পরীক্ষা করে জেনেছিলেন তাঁর ব্লাড গ্রুপ নেগেটিভ। যা বিরল। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তির পর রোগীর পরিজনকে এক ইউনিট নেগেটিভ ব্লাড আনতে বলা হয়। তিনদিন হন্যে হয়ে ঘুরে ডোনার জোগাড় করতে পারেননি। আমাদের সন্দেহ হওয়ায় আমরা ব্লাড স্যাম্পেল টেস্ট করাই। এমনকী একটি সরকারি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে ব্লাড স্যাম্পেলের ক্রস ম্যাচ করে আমরা জানতে পারি উনি পজিটিভ গ্রুপের। নেগেটিভ ও পজিটিভ গ্রুপের এই ভুলের জন্য রোগীর জীবনহানি ঘটতে পারত।
আকাশদীপবাবু আরও বলেন, রক্তের ভুল রিপোর্টের জন্য শুধু যে নির্দিষ্ট সেই রোগীর জীবনহানির সম্ভবনা থাকছে, তাই নয়। তার সঙ্গে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জীবনের ঝুঁকিও থাকে। উদাহরণ হিসেবে নেওয়া যেতে পারে, অনেক সময় দেখা যাচ্ছে রোগীর সেরোলজি পরীক্ষার রিপোর্টে নেগেটিভ বা নন রিয়াকটিভ কথাটি উল্লেখ থাকলেও রিপিট টেস্টে সেরোলজি পজিটিভ আসছে। অর্থাৎ, সে এইচআইভি পজিটিভ। এমন রিপোর্ট ভুল থাকায় অজান্তেই অনেকেই বিপদের সম্মুখীন হচ্ছেন। চিকিৎসকদের দাবি, রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই রোগ নির্ণয় হয়ে থাকে। অথচ শহর ও শহরতলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা প্যাথলজি সেন্টারে নিয়ম নীতিকে তোয়াক্কা না করেই রিপোর্ট ধরিয়ে দিচ্ছেন রোগীর পরিজনদের হাতে। বাজারের প্রতিযোগিতায় নিজেদের আগে রাখতে ও বাজার ধরতে অনেক ডায়াগনস্টিক সেন্টার কম দামে রক্ত পরীক্ষার কথা প্রচার করছে। যে অর্থমূল্যে তারা রক্ত পরীক্ষার কথা বলে প্রচারের আলোয় আসতে চাইছে, তাতে বিজ্ঞানসম্মত ও স্ট্যান্ডার্ড প্রটোকল মেনে রক্তের রিপোর্ট তৈরি করা সম্ভব নয় বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।



