নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: মাধ্যমিকে পর পর তিনটি পরীক্ষাই ভালো হয়েছে তার। তৃতীয় দিনের ইতিহাস পরীক্ষা দিয়ে খোশ মেজাজেই বাড়ি ফেরে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী শবনম খাতুন। মা বাবাকে খুশির খবর দেওয়ার আগেই পরিবার তাকে তার দাদার মৃত্যুর খবর জানায়। রাজস্থানের শিকড় জেলায় টাওয়ার দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ইংলিশবাজারের মিল্কি এলাকার পরিযায়ী শ্রমিক সামিউল শেখের (২০)। ওই দুর্ঘটনাতেই গুরুতর জখম হয়েছেন ইংলিশবাজারের আরও চার পরিযায়ী শ্রমিক।
Advertisement
মৃতের মা বিজলি বিবি মঙ্গলবার বলেন, বাড়িতে উপার্জনকারী বলতে শুধু আমার ছেলেই ছিল। স্বামীর বয়স হয়েছে। মেয়ে স্কুলে পড়ে। সংসারের হাল ধরতেই রাজস্থানে যেতে হয়েছিল ছেলেকে। কিন্তু সে যে এভাবে ফিরবে তা দুঃস্বপ্নেও ভাবিনি। মঙ্গলবার মালদহ জেলা পরিষদের সদস্য জুয়েল রহমান সিদ্দিকী মৃতের বাড়িতে যান। তিনি মৃতের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে সমস্ত রকম সরকারি পরিষেবা প্রদানের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, মিল্কির মির্জাচকের ওই যুবক এক মাস আগে রাজস্থানে কাজ করতে যান। সোমবার জানতে পারি সেখানে টাওয়ার দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শ্রমিকের পরিবারে রয়েছে বৃদ্ধ মা, বাবা ও বোন শবনম। মিল্কি হাইস্কুলের ছাত্রী শবনম এদিনও দাদার মৃত্যু শোককে সঙ্গী করে মঙ্গলবার ভূগোল পরীক্ষা দেয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজস্থানের শিকরে ওই দুর্ঘটনায় আরও চারজন গুরুতর জখম হয়েছেন। তাঁরা হলেন মির্জাচকের মিঠুন খান, শোভানগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার রাসেল শেখ, হেলু শেখ ও মনিরুল শেখ। মৃত যুবকের আত্মীয় মনিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের এবং আশপাশের গ্রামের আরও বেশ কয়েকজন একটি নির্মাণ সংস্থার অধীনে কাজ করছিলেন। সেখানেই টাওয়ার ভেঙে পড়ে সামিউলের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ও জখমদের পরিবার জানিয়েছে, প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালেও তাঁরা টাওয়ারের কাজ করছিলেন। সেই সময় হঠাৎই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে টাওয়ারটি। ঘটনাস্থলেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়। জখমদের উদ্ধার করে হাসপাতালে হয়। যুবকের মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছতেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে।



